সরেজমিন নিউজ

কিশোরগঞ্জে বকেয়া বেতন না দিয়েই ১২ খণ্ডকালীন শিক্ষককে অব্যাহতি



কিশোরগঞ্জে বকেয়া  বেতন না দিয়েই ১২ খণ্ডকালীন শিক্ষককে অব্যাহতি

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর সরকারি মডেল পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১২ জন খণ্ডকালীন শিক্ষককে দীর্ঘ ২১ মাসের বেতন পরিশোধ না করেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাওনা পরিশোধ ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ চেয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রেস ক্লাবে আনুষ্ঠানিক লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন।

​আবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠানটি সরকারীকরণের সময় পরিদর্শন জটিলতায় দিবা শাখার ১৫ জন শিক্ষক সরকারি কাঠামোর বাইরে থেকে যান। পরবর্তীতে শিক্ষক সংকট নিরসনে ২০১৫ সাল থেকে চালু থাকা দুই শিফটের পাঠদান অব্যাহত রাখতে ১২ জন খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীর পাঠদানে যুক্ত থাকা এই শিক্ষকদের হঠাৎ অব্যাহতি দেওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে মারাত্মক শিক্ষা বিপর্যয় ও পাঠদানে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরির শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

​ভুক্তভোগী শিক্ষকদের দাবি, মাসিক ৭ হাজার টাকা চুক্তি অনুযায়ী জনপ্রতি ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা করে ১২ জন শিক্ষকের সর্বমোট ১৭ লাখ ৬৪ হাজার টাকা বকেয়া পড়েছে। এই বিপুল পরিমাণ পারিশ্রমিক পরিশোধ না করেই তাঁদের পাঠদান কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে বিনাবেতনে দায়িত্ব পালন করা এসব শিক্ষক পরিবার-পরিজন নিয়ে তীব্র আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

​এ বিষয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. খায়রুল ইসলাম জানান, প্রতিষ্ঠানটি সরকারি হওয়ার পর নিজস্ব আয় সরাসরি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হওয়ায় স্থানীয় তহবিল থেকে এই অর্থ পরিশোধের সুযোগ নেই। তিনি উল্লেখ করেন, একাডেমিক কাউন্সিলের নির্দেশনামা অনুযায়ীই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা অধিদপ্তরের অডিট ও অর্থ শাখার নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ তহবিল থেকে অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার জটিলতা রয়েছে।

​বকেয়া পাওনা দ্রুত ছাড় ও সমস্যার সুষ্ঠু সমাধানে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন শিক্ষা কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা।

আপনার মতামত লিখুন

সরেজমিন নিউজ

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কিশোরগঞ্জে বকেয়া বেতন না দিয়েই ১২ খণ্ডকালীন শিক্ষককে অব্যাহতি

প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর সরকারি মডেল পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১২ জন খণ্ডকালীন শিক্ষককে দীর্ঘ ২১ মাসের বেতন পরিশোধ না করেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাওনা পরিশোধ ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ চেয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রেস ক্লাবে আনুষ্ঠানিক লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন।

​আবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠানটি সরকারীকরণের সময় পরিদর্শন জটিলতায় দিবা শাখার ১৫ জন শিক্ষক সরকারি কাঠামোর বাইরে থেকে যান। পরবর্তীতে শিক্ষক সংকট নিরসনে ২০১৫ সাল থেকে চালু থাকা দুই শিফটের পাঠদান অব্যাহত রাখতে ১২ জন খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীর পাঠদানে যুক্ত থাকা এই শিক্ষকদের হঠাৎ অব্যাহতি দেওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে মারাত্মক শিক্ষা বিপর্যয় ও পাঠদানে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরির শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

​ভুক্তভোগী শিক্ষকদের দাবি, মাসিক ৭ হাজার টাকা চুক্তি অনুযায়ী জনপ্রতি ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা করে ১২ জন শিক্ষকের সর্বমোট ১৭ লাখ ৬৪ হাজার টাকা বকেয়া পড়েছে। এই বিপুল পরিমাণ পারিশ্রমিক পরিশোধ না করেই তাঁদের পাঠদান কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে বিনাবেতনে দায়িত্ব পালন করা এসব শিক্ষক পরিবার-পরিজন নিয়ে তীব্র আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

​এ বিষয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. খায়রুল ইসলাম জানান, প্রতিষ্ঠানটি সরকারি হওয়ার পর নিজস্ব আয় সরাসরি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হওয়ায় স্থানীয় তহবিল থেকে এই অর্থ পরিশোধের সুযোগ নেই। তিনি উল্লেখ করেন, একাডেমিক কাউন্সিলের নির্দেশনামা অনুযায়ীই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা অধিদপ্তরের অডিট ও অর্থ শাখার নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ তহবিল থেকে অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার জটিলতা রয়েছে।

​বকেয়া পাওনা দ্রুত ছাড় ও সমস্যার সুষ্ঠু সমাধানে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন শিক্ষা কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা।


সরেজমিন নিউজ


কপিরাইট © ২০২৬ সরেজমিন নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত