সরেজমিন নিউজ

ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যু, কুলিয়ারচরে রহস্য



ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যু, কুলিয়ারচরে রহস্য

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।শনিবার সকালে বড়খারচর রেলক্রসিংয়ের কাছে রেললাইনের ওপর তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তবে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—ওই ব্যক্তি রেললাইনে এলেন কীভাবে?

শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে বড়খারচর রেলক্রসিংসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী এগারসিন্দুর প্রভাতী ট্রেনটি বড়খারচর এলাকা অতিক্রম করার সময় রেললাইনের ওপর থাকা ওই ব্যক্তিকে কেটে চলে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

তবে মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। কারণ, নিহত ব্যক্তির শরীরে কোনো পোশাক ছিল না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ফলে তিনি সাধারণ পথচারী হিসেবে রেললাইনে ছিলেন, নাকি অন্য কোনোভাবে সেখানে এসে পড়েছিলেন—তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে কয়েকটি সম্ভাবনার কথা আলোচনা হচ্ছে। কেউ ধারণা করছেন, চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে ওই ব্যক্তি রেললাইনে চলে আসতে পারেন। আবার কারও আশঙ্কা, ট্রেনের ছাদে কোনো ধরনের ছিনতাই বা অন্য ঘটনার শিকার হয়ে তিনি নিচে পড়ে থাকতে পারেন।

তবে এসবই স্থানীয়দের ধারণা। এখন পর্যন্ত কোনো সম্ভাবনাই তদন্তে নিশ্চিত হয়নি।

ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে বড়খারচর রেলক্রসিং। দুর্ঘটনার সময় সেখানে দায়িত্ব পালন করছিলেন গেটম্যান প্রকাশ কুমার দাশ।

তিনি জানান, দুর্ঘটনার সময় হালকা বৃষ্টি হচ্ছিল। ট্রেন আসার আগে নিয়ম অনুযায়ী তিনি রেলক্রসিংয়ের দুই পাশের ব্যারিকেড নামিয়ে দেন। তখন রেললাইনের আশপাশে কাউকে দেখতে পাননি।

প্রকাশ কুমার দাশের ভাষ্য, রেললাইনে কেউ থাকলে সাধারণত ট্রেন থেকে হর্ন দেওয়ার কথা। কিন্তু ওই ট্রেনটি যাওয়ার সময় তিনি কোনো হর্ন শুনতে পাননি। এ কারণে তারও ধারণা, লোকটি হয়তো ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে রেললাইনে এসে থাকতে পারেন।

দুর্ঘটনার পর নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা নাকি অন্য কোনো এলাকা থেকে এসেছিলেন, সে বিষয়েও এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল হাসান জানান, তিনি বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন। খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যদের পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরাও ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করছেন।

ওসি বলেন, তদন্ত শেষ হলে ওই ব্যক্তি কীভাবে রেললাইনে এসেছিলেন এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী—তা জানা যাবে।

একজন অজ্ঞাত ব্যক্তির পোশাকহীন মরদেহ রেললাইনে পড়ে থাকা এবং তাকে ঘিরে ভিন্ন ভিন্ন ধারণা—সব মিলিয়ে ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এটিকে দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা কিংবা অন্য কোনো ঘটনার ফল হিসেবে চূড়ান্তভাবে বলা যাচ্ছে না। নিহতের পরিচয় শনাক্ত এবং ঘটনাস্থলের আলামত বিশ্লেষণের পরই পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ ও স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন

সরেজমিন নিউজ

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যু, কুলিয়ারচরে রহস্য

প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।শনিবার সকালে বড়খারচর রেলক্রসিংয়ের কাছে রেললাইনের ওপর তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। তবে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে—ওই ব্যক্তি রেললাইনে এলেন কীভাবে?

শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে বড়খারচর রেলক্রসিংসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী এগারসিন্দুর প্রভাতী ট্রেনটি বড়খারচর এলাকা অতিক্রম করার সময় রেললাইনের ওপর থাকা ওই ব্যক্তিকে কেটে চলে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

তবে মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। কারণ, নিহত ব্যক্তির শরীরে কোনো পোশাক ছিল না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ফলে তিনি সাধারণ পথচারী হিসেবে রেললাইনে ছিলেন, নাকি অন্য কোনোভাবে সেখানে এসে পড়েছিলেন—তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে কয়েকটি সম্ভাবনার কথা আলোচনা হচ্ছে। কেউ ধারণা করছেন, চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে ওই ব্যক্তি রেললাইনে চলে আসতে পারেন। আবার কারও আশঙ্কা, ট্রেনের ছাদে কোনো ধরনের ছিনতাই বা অন্য ঘটনার শিকার হয়ে তিনি নিচে পড়ে থাকতে পারেন।

তবে এসবই স্থানীয়দের ধারণা। এখন পর্যন্ত কোনো সম্ভাবনাই তদন্তে নিশ্চিত হয়নি।

ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে বড়খারচর রেলক্রসিং। দুর্ঘটনার সময় সেখানে দায়িত্ব পালন করছিলেন গেটম্যান প্রকাশ কুমার দাশ।

তিনি জানান, দুর্ঘটনার সময় হালকা বৃষ্টি হচ্ছিল। ট্রেন আসার আগে নিয়ম অনুযায়ী তিনি রেলক্রসিংয়ের দুই পাশের ব্যারিকেড নামিয়ে দেন। তখন রেললাইনের আশপাশে কাউকে দেখতে পাননি।

প্রকাশ কুমার দাশের ভাষ্য, রেললাইনে কেউ থাকলে সাধারণত ট্রেন থেকে হর্ন দেওয়ার কথা। কিন্তু ওই ট্রেনটি যাওয়ার সময় তিনি কোনো হর্ন শুনতে পাননি। এ কারণে তারও ধারণা, লোকটি হয়তো ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে রেললাইনে এসে থাকতে পারেন।

দুর্ঘটনার পর নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা নাকি অন্য কোনো এলাকা থেকে এসেছিলেন, সে বিষয়েও এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল হাসান জানান, তিনি বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন। খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যদের পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরাও ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করছেন।

ওসি বলেন, তদন্ত শেষ হলে ওই ব্যক্তি কীভাবে রেললাইনে এসেছিলেন এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী—তা জানা যাবে।

একজন অজ্ঞাত ব্যক্তির পোশাকহীন মরদেহ রেললাইনে পড়ে থাকা এবং তাকে ঘিরে ভিন্ন ভিন্ন ধারণা—সব মিলিয়ে ঘটনাটি স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এটিকে দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা কিংবা অন্য কোনো ঘটনার ফল হিসেবে চূড়ান্তভাবে বলা যাচ্ছে না। নিহতের পরিচয় শনাক্ত এবং ঘটনাস্থলের আলামত বিশ্লেষণের পরই পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ ও স্থানীয়রা।


সরেজমিন নিউজ


কপিরাইট © ২০২৬ সরেজমিন নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত