এলএনজি কার্গো সংকটে টানা তিন দিন বন্ধ থাকার পর মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে আবার জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। শনিবার দুপুর ২টার দিকে টার্মিনালটির রিগ্যাসিফিকেশন কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়।
শুরুতে টার্মিনালটি থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হচ্ছে। কার্যক্রম স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল হলে ধাপে ধাপে সরবরাহের পরিমাণ বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।
পেট্রোবাংলা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম (বিপি)-এর একটি এলএনজি কার্গো নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগেই মহেশখালীতে পৌঁছে যায়। কার্গোটি রোববার আসার কথা থাকলেও শনিবার পৌঁছানোর কারণে অপেক্ষাকৃত দ্রুত টার্মিনালটির কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়েছে।
কার্গো থেকে এলএনজি গ্রহণের পর দুপুর থেকেই সেটিকে গ্যাসে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ চালু করা হয়।
পেট্রোবাংলার পিএসসি বিভাগের পরিচালক এবং অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী মো. শোয়েব জানান, এক্সিলারেটের টার্মিনাল পুনরায় চালু হয়েছে এবং গ্যাস সরবরাহও শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সরবরাহ আরও বাড়ানো হবে।
মহেশখালীর এই টার্মিনালটি এর আগেও বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়েছিল। গত ২১ জুলাই জাহাজ থেকে জাহাজে এলএনজি স্থানান্তরের সময় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় টার্মিনালটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এর ফলে জাতীয় গ্রিডে এক্সিলারেট টার্মিনাল থেকে দৈনিক প্রায় ৪৫০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। পরে মজুত এলএনজি শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ১৯ আগস্ট থেকে টার্মিনালটির গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
তিন দিন পর নতুন এলএনজি কার্গো আসায় আবারও সরবরাহ শুরু হলো।
পেট্রোবাংলার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুর সাড়ে ২টা পর্যন্ত দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৬৭০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে। একই সময়ে দেশে মোট গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ ছিল প্রায় ২ হাজার ৩০০ এমএমসিএফডি।
এক্সিলারেট টার্মিনালের সরবরাহ ধীরে ধীরে বাড়ানো হলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের ঘাটতি কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
এলএনজি সরবরাহে সংকটের প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। এর প্রভাব হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শনিবারও লোডশেডিং দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো কোনো এলাকায় দিনে দুই থেকে তিন দফা বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। প্রতিবার প্রায় এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগও রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এক্সিলারেট টার্মিনাল থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়তে থাকলে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি সরবরাহও কিছুটা বাড়বে। এতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ ঘাটতি ও লোডশেডিংয়ের চাপ কমতে পারে।
তিন দিনের সরবরাহ-বিরতির পর মহেশখালীর টার্মিনালটি চালু হওয়ায় গ্যাসের সংকট সাময়িকভাবে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। তবে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে টার্মিনালের সক্ষমতা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোই এখন মূল বিষয়।
.png)
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬
এলএনজি কার্গো সংকটে টানা তিন দিন বন্ধ থাকার পর মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে আবার জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। শনিবার দুপুর ২টার দিকে টার্মিনালটির রিগ্যাসিফিকেশন কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়।
শুরুতে টার্মিনালটি থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হচ্ছে। কার্যক্রম স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল হলে ধাপে ধাপে সরবরাহের পরিমাণ বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছে পেট্রোবাংলা।
পেট্রোবাংলা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম (বিপি)-এর একটি এলএনজি কার্গো নির্ধারিত সময়ের এক দিন আগেই মহেশখালীতে পৌঁছে যায়। কার্গোটি রোববার আসার কথা থাকলেও শনিবার পৌঁছানোর কারণে অপেক্ষাকৃত দ্রুত টার্মিনালটির কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়েছে।
কার্গো থেকে এলএনজি গ্রহণের পর দুপুর থেকেই সেটিকে গ্যাসে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ চালু করা হয়।
পেট্রোবাংলার পিএসসি বিভাগের পরিচালক এবং অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী মো. শোয়েব জানান, এক্সিলারেটের টার্মিনাল পুনরায় চালু হয়েছে এবং গ্যাস সরবরাহও শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সরবরাহ আরও বাড়ানো হবে।
মহেশখালীর এই টার্মিনালটি এর আগেও বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়েছিল। গত ২১ জুলাই জাহাজ থেকে জাহাজে এলএনজি স্থানান্তরের সময় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় টার্মিনালটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এর ফলে জাতীয় গ্রিডে এক্সিলারেট টার্মিনাল থেকে দৈনিক প্রায় ৪৫০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। পরে মজুত এলএনজি শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ১৯ আগস্ট থেকে টার্মিনালটির গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
তিন দিন পর নতুন এলএনজি কার্গো আসায় আবারও সরবরাহ শুরু হলো।
পেট্রোবাংলার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুর সাড়ে ২টা পর্যন্ত দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল মিলিয়ে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৬৭০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে। একই সময়ে দেশে মোট গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ ছিল প্রায় ২ হাজার ৩০০ এমএমসিএফডি।
এক্সিলারেট টার্মিনালের সরবরাহ ধীরে ধীরে বাড়ানো হলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের ঘাটতি কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
এলএনজি সরবরাহে সংকটের প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও। পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। এর প্রভাব হিসেবে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শনিবারও লোডশেডিং দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো কোনো এলাকায় দিনে দুই থেকে তিন দফা বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। প্রতিবার প্রায় এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগও রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এক্সিলারেট টার্মিনাল থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়তে থাকলে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে জ্বালানি সরবরাহও কিছুটা বাড়বে। এতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ ঘাটতি ও লোডশেডিংয়ের চাপ কমতে পারে।
তিন দিনের সরবরাহ-বিরতির পর মহেশখালীর টার্মিনালটি চালু হওয়ায় গ্যাসের সংকট সাময়িকভাবে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। তবে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে টার্মিনালের সক্ষমতা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোই এখন মূল বিষয়।
.png)
আপনার মতামত লিখুন