পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদের মধ্যে কাজের ক্ষেত্র ভাগ করে দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রতিমন্ত্রী-১ হিসেবে হুমায়ুন কবির এবং প্রতিমন্ত্রী-২ হিসেবে শামা ওবায়েদ ইসলাম পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সহযোগিতা করবেন।
রোববার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মন্ত্রণালয়ের একটি পরিপত্রের মাধ্যমে দুই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বের ক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দায়িত্ব বণ্টনে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন রয়েছে বলেও পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিপত্র অনুযায়ী, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে দ্বিপক্ষীয় এবং বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক বিষয় নিয়ে কাজ করবেন হুমায়ুন কবির। একই সঙ্গে অনিবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয় এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী যেসব অতিরিক্ত দায়িত্ব তাঁর ওপর অর্পণ করবেন, সেগুলোতেও তিনি সহযোগিতা করবেন।
অন্যদিকে শামা ওবায়েদ ইসলামের দায়িত্বের পরিধিতে রাখা হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাজ। পাশাপাশি মানবাধিকার, গবেষণা ও উদ্ভাবন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন, সৃজনশীল অর্থনীতি এবং স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণসংক্রান্ত বিষয়েও তিনি কাজ করবেন।
তাঁর দায়িত্বের মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), সমুদ্র আইন ও সামুদ্রিক সম্পদ, বিশ্ব স্বাস্থ্য কূটনীতি এবং সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কূটনীতিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়। এ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয় অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা খলিলুর রহমানকে।
সরকার গঠনের সময় বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক কমিটির সদস্য শামা ওবায়েদ ইসলামকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরে হুমায়ুন কবিরকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এরপর গত শুক্রবার নতুন করে পাঁচজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন। তাঁদের মধ্যে হুমায়ুন কবিরও ছিলেন। নতুন দায়িত্বের মাধ্যমে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সরকারের কূটনৈতিক কার্যক্রমে সরাসরি যুক্ত হলেন।
দায়িত্ব বণ্টনের ধরন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, হুমায়ুন কবিরের কাজের মূল ক্ষেত্র রাখা হয়েছে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে। অন্যদিকে শামা ওবায়েদের দায়িত্বে রয়েছে মানবাধিকার, জলবায়ু, সমুদ্রসম্পদ, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া কূটনীতির মতো বিশেষায়িত বিষয়।
ফলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভাগ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপর থাকা দায়িত্ব পালনে দুই প্রতিমন্ত্রী সহায়তা করবেন।
পরিপত্রে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, উভয় প্রতিমন্ত্রীই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানের অধীনে তাঁদের নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করবেন। অর্থাৎ মন্ত্রণালয়ের সামগ্রিক নীতি ও কার্যক্রমে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বই বহাল থাকবে।
নতুন দায়িত্ব বণ্টনের ফলে সরকারের পররাষ্ট্রনীতির বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনা এবং বিশেষায়িত কূটনৈতিক বিষয়গুলোতে দুই প্রতিমন্ত্রীর ভূমিকা আরও স্পষ্ট হলো।
পরবর্তী সময়ে তাঁদের দায়িত্বের আওতায় কোন কোন আন্তর্জাতিক ইস্যু অগ্রাধিকার পায়, সেটিই এখন নজর রাখার বিষয়।
.png)
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া হুমায়ুন কবির ও শামা ওবায়েদের মধ্যে কাজের ক্ষেত্র ভাগ করে দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রতিমন্ত্রী-১ হিসেবে হুমায়ুন কবির এবং প্রতিমন্ত্রী-২ হিসেবে শামা ওবায়েদ ইসলাম পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সহযোগিতা করবেন।
রোববার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মন্ত্রণালয়ের একটি পরিপত্রের মাধ্যমে দুই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বের ক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দায়িত্ব বণ্টনে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন রয়েছে বলেও পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিপত্র অনুযায়ী, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে দ্বিপক্ষীয় এবং বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক বিষয় নিয়ে কাজ করবেন হুমায়ুন কবির। একই সঙ্গে অনিবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয় এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী যেসব অতিরিক্ত দায়িত্ব তাঁর ওপর অর্পণ করবেন, সেগুলোতেও তিনি সহযোগিতা করবেন।
অন্যদিকে শামা ওবায়েদ ইসলামের দায়িত্বের পরিধিতে রাখা হয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাজ। পাশাপাশি মানবাধিকার, গবেষণা ও উদ্ভাবন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন, সৃজনশীল অর্থনীতি এবং স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণসংক্রান্ত বিষয়েও তিনি কাজ করবেন।
তাঁর দায়িত্বের মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), সমুদ্র আইন ও সামুদ্রিক সম্পদ, বিশ্ব স্বাস্থ্য কূটনীতি এবং সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কূটনীতিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়। এ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয় অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা খলিলুর রহমানকে।
সরকার গঠনের সময় বিএনপির আন্তর্জাতিকবিষয়ক কমিটির সদস্য শামা ওবায়েদ ইসলামকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পরে হুমায়ুন কবিরকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এরপর গত শুক্রবার নতুন করে পাঁচজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন। তাঁদের মধ্যে হুমায়ুন কবিরও ছিলেন। নতুন দায়িত্বের মাধ্যমে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সরকারের কূটনৈতিক কার্যক্রমে সরাসরি যুক্ত হলেন।
দায়িত্ব বণ্টনের ধরন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, হুমায়ুন কবিরের কাজের মূল ক্ষেত্র রাখা হয়েছে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্ক এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে। অন্যদিকে শামা ওবায়েদের দায়িত্বে রয়েছে মানবাধিকার, জলবায়ু, সমুদ্রসম্পদ, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া কূটনীতির মতো বিশেষায়িত বিষয়।
ফলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভাগ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ওপর থাকা দায়িত্ব পালনে দুই প্রতিমন্ত্রী সহায়তা করবেন।
পরিপত্রে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, উভয় প্রতিমন্ত্রীই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানের অধীনে তাঁদের নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করবেন। অর্থাৎ মন্ত্রণালয়ের সামগ্রিক নীতি ও কার্যক্রমে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বই বহাল থাকবে।
নতুন দায়িত্ব বণ্টনের ফলে সরকারের পররাষ্ট্রনীতির বাস্তবায়ন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনা এবং বিশেষায়িত কূটনৈতিক বিষয়গুলোতে দুই প্রতিমন্ত্রীর ভূমিকা আরও স্পষ্ট হলো।
পরবর্তী সময়ে তাঁদের দায়িত্বের আওতায় কোন কোন আন্তর্জাতিক ইস্যু অগ্রাধিকার পায়, সেটিই এখন নজর রাখার বিষয়।
.png)
আপনার মতামত লিখুন