সরেজমিন নিউজ

চাঁদা দাবির অভিযোগে জামায়াত নেতার পিএসসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা



চাঁদা দাবির অভিযোগে জামায়াত নেতার পিএসসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) আরমান উদ্দিন, তাঁর ভাই আরিফ উদ্দিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, দোকানের মালামাল নিয়ে যাওয়া এবং সম্পত্তির দখল নেওয়ার হুমকির অভিযোগে আদালতে মামলা করেছেন এক প্রবাসী।

রোববার (২৩ আগস্ট) চট্টগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে লোহাগাড়ার পশ্চিম কলাউজান এলাকার বাসিন্দা আমির হোসেন মামলাটি করেন। এতে ছয়জনের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন শওকত আলী, আদিল, আনোয়ার ও জয়নাল আবেদীন। বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আদনান কবির জিলান জানান, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার এজাহারে আমির হোসেন অভিযোগ করেন, লোহাগাড়ার আজিজ কমপ্লেক্সে তাঁর মালিকানাধীন চারতলা একটি ভবন রয়েছে। সেখানে নিচতলায় একটি আলমারির দোকান এবং অন্যান্য অংশে বসতঘর ভাড়া দেওয়া হয়েছে।

বাদীর দাবি, কিছুদিন ধরে আরমান উদ্দিন ও তাঁর ভাই আরিফ উদ্দিন তাঁর কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করে আসছিলেন। টাকা না দিলে ভবন ও মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ এপ্রিল গভীর রাতে আরমান উদ্দিন ফোন করে আবারও টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাদীকে ঘর ও মার্কেট দখল করে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এরপর ওই রাতেই কয়েকজন ব্যক্তি আজিজ কমপ্লেক্সের নিচতলায় থাকা একটি ভাড়াটিয়ার আলমারির দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। সেখান থেকে বিভিন্ন ধরনের স্টিলের আলমারি, ওয়াল শোকেস, আলমারি তৈরির শিটসহ বেশ কিছু মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এসব পণ্যের আনুমানিক মূল্য ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ টাকা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া দোকানের একটি ক্যাশ টেবিলও নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন আমির হোসেন। তাঁর দাবি, ওই টেবিলের ভেতরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নগদ ছিল। ঘটনার পর দোকানে নতুন তালা লাগিয়ে দেওয়া হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদী জানান, ঘটনার সময় তিনি দেশের বাইরে ছিলেন। দেশে ফেরার পর বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে গত ২০ আগস্ট সকালে তাঁর ভবনে বৈঠকের আয়োজন করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

আমির হোসেনের অভিযোগ, ওই বৈঠকেও তাঁর কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে দোকান ও ভবনের দখল ছেড়ে দেওয়া হবে না বলে তাঁকে জানানো হয়। এ সময় আরমান উদ্দিন ফোনে তাঁকে এলাকায় বসবাস করতে হলে অভিযুক্তদের কথামতো চলতে হবে বলে চাপ দেন বলেও মামলায় দাবি করা হয়েছে।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, টাকা না দিলে হত্যার পর মরদেহ গুম করে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন তাঁকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন বলেও বাদী অভিযোগ করেছেন।

ঘটনার পর আমির হোসেন লোহাগাড়া থানায় অভিযোগ করতে যান। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও মামলা গ্রহণ না করায় তিনি আদালতে মামলা করতে বাধ্য হয়েছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন।

এদিকে মামলার অন্যতম আসামি আরমান উদ্দিন বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলার অন্য অভিযুক্তদের বক্তব্যও পাওয়া সম্ভব হয়নি।

মামলার বাদী আমির হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর দেশে ফিরে তিনি নিজের সম্পত্তি নিয়ে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। তাঁর দাবি, বৈধ মালিকানা থাকা সত্ত্বেও একটি পক্ষ তাঁর মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে।

অভিযোগের বিষয়ে সাতকানিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, মামলার নথি এখনো তাঁদের হাতে পৌঁছায়নি। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নথি পাওয়ার পর অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

আদালতে করা মামলায় এসব অভিযোগ আনা হলেও সেগুলোর সত্যতা এখনো তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ, অভিযুক্তদের সংশ্লিষ্টতা এবং অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে

আপনার মতামত লিখুন

সরেজমিন নিউজ

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


চাঁদা দাবির অভিযোগে জামায়াত নেতার পিএসসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশের তারিখ : ২৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) আরমান উদ্দিন, তাঁর ভাই আরিফ উদ্দিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, দোকানের মালামাল নিয়ে যাওয়া এবং সম্পত্তির দখল নেওয়ার হুমকির অভিযোগে আদালতে মামলা করেছেন এক প্রবাসী।

রোববার (২৩ আগস্ট) চট্টগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে লোহাগাড়ার পশ্চিম কলাউজান এলাকার বাসিন্দা আমির হোসেন মামলাটি করেন। এতে ছয়জনের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন শওকত আলী, আদিল, আনোয়ার ও জয়নাল আবেদীন। বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আদনান কবির জিলান জানান, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার এজাহারে আমির হোসেন অভিযোগ করেন, লোহাগাড়ার আজিজ কমপ্লেক্সে তাঁর মালিকানাধীন চারতলা একটি ভবন রয়েছে। সেখানে নিচতলায় একটি আলমারির দোকান এবং অন্যান্য অংশে বসতঘর ভাড়া দেওয়া হয়েছে।

বাদীর দাবি, কিছুদিন ধরে আরমান উদ্দিন ও তাঁর ভাই আরিফ উদ্দিন তাঁর কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করে আসছিলেন। টাকা না দিলে ভবন ও মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ এপ্রিল গভীর রাতে আরমান উদ্দিন ফোন করে আবারও টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাদীকে ঘর ও মার্কেট দখল করে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

এরপর ওই রাতেই কয়েকজন ব্যক্তি আজিজ কমপ্লেক্সের নিচতলায় থাকা একটি ভাড়াটিয়ার আলমারির দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। সেখান থেকে বিভিন্ন ধরনের স্টিলের আলমারি, ওয়াল শোকেস, আলমারি তৈরির শিটসহ বেশ কিছু মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এসব পণ্যের আনুমানিক মূল্য ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ টাকা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া দোকানের একটি ক্যাশ টেবিলও নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন আমির হোসেন। তাঁর দাবি, ওই টেবিলের ভেতরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা নগদ ছিল। ঘটনার পর দোকানে নতুন তালা লাগিয়ে দেওয়া হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদী জানান, ঘটনার সময় তিনি দেশের বাইরে ছিলেন। দেশে ফেরার পর বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে গত ২০ আগস্ট সকালে তাঁর ভবনে বৈঠকের আয়োজন করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

আমির হোসেনের অভিযোগ, ওই বৈঠকেও তাঁর কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে দোকান ও ভবনের দখল ছেড়ে দেওয়া হবে না বলে তাঁকে জানানো হয়। এ সময় আরমান উদ্দিন ফোনে তাঁকে এলাকায় বসবাস করতে হলে অভিযুক্তদের কথামতো চলতে হবে বলে চাপ দেন বলেও মামলায় দাবি করা হয়েছে।

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, টাকা না দিলে হত্যার পর মরদেহ গুম করে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন তাঁকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন বলেও বাদী অভিযোগ করেছেন।

ঘটনার পর আমির হোসেন লোহাগাড়া থানায় অভিযোগ করতে যান। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও মামলা গ্রহণ না করায় তিনি আদালতে মামলা করতে বাধ্য হয়েছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন।

এদিকে মামলার অন্যতম আসামি আরমান উদ্দিন বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলার অন্য অভিযুক্তদের বক্তব্যও পাওয়া সম্ভব হয়নি।

মামলার বাদী আমির হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর দেশে ফিরে তিনি নিজের সম্পত্তি নিয়ে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। তাঁর দাবি, বৈধ মালিকানা থাকা সত্ত্বেও একটি পক্ষ তাঁর মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে।

অভিযোগের বিষয়ে সাতকানিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, মামলার নথি এখনো তাঁদের হাতে পৌঁছায়নি। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নথি পাওয়ার পর অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

আদালতে করা মামলায় এসব অভিযোগ আনা হলেও সেগুলোর সত্যতা এখনো তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ, অভিযুক্তদের সংশ্লিষ্টতা এবং অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে


সরেজমিন নিউজ


কপিরাইট © ২০২৬ সরেজমিন নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত