সরেজমিন নিউজ

৯৯৯-এ কল করেও কেন মিলছে না দ্রুত সহায়তা? হাইকোর্টের রুল



৯৯৯-এ কল করেও কেন মিলছে না দ্রুত সহায়তা? হাইকোর্টের রুল

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করার পর দ্রুত সহায়তা না পাওয়া, কল বারবার অন্যত্র স্থানান্তর এবং জরুরি সেবা ব্যবস্থায় জিপিএস যুক্ত না করার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে দ্রুত পুলিশি সহায়তা নিশ্চিত করতে ‘জিরো এফআইআর’ ব্যবস্থা চালু না করাকেও আইনি প্রশ্নের আওতায় আনা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে রুল জারি করেন।

রিটে ৯৯৯ সেবার সঙ্গে কার্যকর জিপিএস ব্যবস্থা যুক্ত করা, কল গ্রহণ ও সহায়তা প্রদানের প্রক্রিয়ায় দ্রুততা নিশ্চিত করা এবং ‘জিরো এফআইআর’ ব্যবস্থা চালুর দাবি জানানো হয়েছে।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর কার্যক্রমে দেরি, কল একাধিকবার অন্য জায়গায় পাঠানো এবং জিপিএস প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার না করার অভিযোগ তুলে গত ১৭ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের তিন আইনজীবী রিটটি করেন। তাঁদের মধ্যে আইনজীবী সায়কা কবির জিতি, রাহুল তালুকদার পরাগ ও সৈয়দা আফরোজা জেরিন রয়েছেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন সায়কা কবির। তাঁকে সহযোগিতা করেন অন্য রিটকারীরা।

রিটকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, জরুরি পরিস্থিতিতে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে সহায়তা চাওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে ফোনকারীকে নিজের অবস্থান এবং ঘটনাস্থলের বিস্তারিত তথ্য দিতে হয়। ঘটনাস্থল কোন থানার অধিক্ষেত্রে পড়ছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব না হলে কল অন্য জায়গায় পাঠানোর প্রয়োজন পড়ে। এতে জরুরি সহায়তা পেতে সময় বেড়ে যেতে পারে।

রিটকারীদের আইনজীবী বলেন, ৯৯৯ সেবার সঙ্গে কার্যকর জিপিএস প্রযুক্তি যুক্ত থাকলে ফোনকারী কোথায় অবস্থান করছেন বা কোন এলাকায় ঘটনা ঘটেছে, তা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এতে জরুরি পরিস্থিতিতে পুলিশের সহায়তা পৌঁছানোর সময়ও কমানো সম্ভব হতে পারে।

বিশেষ করে ধর্ষণ, ডাকাতিসহ বিভিন্ন আমলযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিটে ‘জিরো এফআইআর’ ব্যবস্থা চালুর বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। রিটকারীদের ভাষ্য, বর্তমানে কোনো ঘটনা সংশ্লিষ্ট থানার অধিক্ষেত্রের বাইরে হলে অভিযোগ গ্রহণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে ‘জিরো এফআইআর’ ব্যবস্থা চালু থাকলে কোনো থানায় অভিযোগ পাওয়ার পর সেটি দ্রুত নথিভুক্ত করে পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানোর সুযোগ থাকবে। এতে গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমবে এবং ভুক্তভোগী দ্রুত আইনি সুরক্ষা পাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে দাবি রিটকারীদের।

৯৯৯ সেবায় দেরি, কল স্থানান্তর এবং জিপিএস ব্যবস্থা কার্যকর না করার বিষয়গুলো কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না—রুলে তা জানতে চেয়েছেন আদালত।

একই সঙ্গে দ্রুত পুলিশি সহায়তা নিশ্চিত এবং নাগরিকের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ‘জিরো এফআইআর’ চালু ও বাস্তবায়নে ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, সেটিও জানতে চাওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর পরিচালক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিবকে দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সরেজমিন নিউজ

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


৯৯৯-এ কল করেও কেন মিলছে না দ্রুত সহায়তা? হাইকোর্টের রুল

প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করার পর দ্রুত সহায়তা না পাওয়া, কল বারবার অন্যত্র স্থানান্তর এবং জরুরি সেবা ব্যবস্থায় জিপিএস যুক্ত না করার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে দ্রুত পুলিশি সহায়তা নিশ্চিত করতে ‘জিরো এফআইআর’ ব্যবস্থা চালু না করাকেও আইনি প্রশ্নের আওতায় আনা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে রুল জারি করেন।

রিটে ৯৯৯ সেবার সঙ্গে কার্যকর জিপিএস ব্যবস্থা যুক্ত করা, কল গ্রহণ ও সহায়তা প্রদানের প্রক্রিয়ায় দ্রুততা নিশ্চিত করা এবং ‘জিরো এফআইআর’ ব্যবস্থা চালুর দাবি জানানো হয়েছে।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর কার্যক্রমে দেরি, কল একাধিকবার অন্য জায়গায় পাঠানো এবং জিপিএস প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার না করার অভিযোগ তুলে গত ১৭ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের তিন আইনজীবী রিটটি করেন। তাঁদের মধ্যে আইনজীবী সায়কা কবির জিতি, রাহুল তালুকদার পরাগ ও সৈয়দা আফরোজা জেরিন রয়েছেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন সায়কা কবির। তাঁকে সহযোগিতা করেন অন্য রিটকারীরা।

রিটকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, জরুরি পরিস্থিতিতে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে সহায়তা চাওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে ফোনকারীকে নিজের অবস্থান এবং ঘটনাস্থলের বিস্তারিত তথ্য দিতে হয়। ঘটনাস্থল কোন থানার অধিক্ষেত্রে পড়ছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব না হলে কল অন্য জায়গায় পাঠানোর প্রয়োজন পড়ে। এতে জরুরি সহায়তা পেতে সময় বেড়ে যেতে পারে।

রিটকারীদের আইনজীবী বলেন, ৯৯৯ সেবার সঙ্গে কার্যকর জিপিএস প্রযুক্তি যুক্ত থাকলে ফোনকারী কোথায় অবস্থান করছেন বা কোন এলাকায় ঘটনা ঘটেছে, তা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এতে জরুরি পরিস্থিতিতে পুলিশের সহায়তা পৌঁছানোর সময়ও কমানো সম্ভব হতে পারে।

বিশেষ করে ধর্ষণ, ডাকাতিসহ বিভিন্ন আমলযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিটে ‘জিরো এফআইআর’ ব্যবস্থা চালুর বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। রিটকারীদের ভাষ্য, বর্তমানে কোনো ঘটনা সংশ্লিষ্ট থানার অধিক্ষেত্রের বাইরে হলে অভিযোগ গ্রহণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

এ ধরনের পরিস্থিতিতে ‘জিরো এফআইআর’ ব্যবস্থা চালু থাকলে কোনো থানায় অভিযোগ পাওয়ার পর সেটি দ্রুত নথিভুক্ত করে পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানোর সুযোগ থাকবে। এতে গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমবে এবং ভুক্তভোগী দ্রুত আইনি সুরক্ষা পাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে দাবি রিটকারীদের।

৯৯৯ সেবায় দেরি, কল স্থানান্তর এবং জিপিএস ব্যবস্থা কার্যকর না করার বিষয়গুলো কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না—রুলে তা জানতে চেয়েছেন আদালত।

একই সঙ্গে দ্রুত পুলিশি সহায়তা নিশ্চিত এবং নাগরিকের আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ‘জিরো এফআইআর’ চালু ও বাস্তবায়নে ব্যর্থতা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, সেটিও জানতে চাওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর পরিচালক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিবকে দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।


সরেজমিন নিউজ


কপিরাইট © ২০২৬ সরেজমিন নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত