সরেজমিন নিউজ

বিসিএস প্রশ্ন ফাঁস: পিএসসির প্রোগ্রামার কৌশিক দেবনাথ কারাগারে



বিসিএস প্রশ্ন ফাঁস: পিএসসির প্রোগ্রামার কৌশিক দেবনাথ কারাগারে

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) অনুষ্ঠিত বিসিএস পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলায় প্রতিষ্ঠানটির প্রোগ্রামার কৌশিক দেবনাথকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ সোমবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এই আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কৌশিক দেবনাথ বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানান। শুনানিতে তাঁর আইনজীবী মো. শরিফুল ইসলাম দাবি করেন, এজাহার ও অভিযোগপত্রে তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা; ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষ এই জামিনের তীব্র বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের যুক্তি তর্ক শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে আসামিকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানার ইনচার্জ মো. রিপন মোল্লা জানান, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে প্রিজন ভ্যানে করে কৌশিককে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

বিসিএস প্রশ্ন ফাঁসের চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় ২০২৪ সালের ৮ জুলাই রাজধানীর পল্টন থানায় সিআইডির উপপরিদর্শক নিপ্পন চন্দ্র বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। এতে ৩১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে চলতি বছরের ১৮ মে পিএসসির সাবেক গাড়িচালক আবেদ আলীসহ ৫৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন কুমার সাহা।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, সিআইডি তদন্তে উঠে এসেছে এটি একটি সুসংগঠিত বিশাল নেটওয়ার্ক। চক্রটির মূল হোতা আবেদ আলীর নেতৃত্বে পরীক্ষার আগেই চুক্তিভুক্ত প্রার্থীদের নির্দিষ্ট স্থানে এনে প্রশ্ন ও উত্তর মুখস্থ করানো হতো। এরপর পরীক্ষার দিন সকালে তাদের কেন্দ্রে পাঠানো হতো। বিনিময়ে অগ্রিম নেওয়া হতো মোটা অঙ্কের টাকা।

বিজি প্রেস থেকে শুরু করে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিও পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল এই চক্রের হাত। এতে পিএসসির বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী, সরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয় থেকে চক্রটি রাষ্ট্রীয় নিয়োগব্যবস্থার গোপনীয়তা ও স্বচ্ছতাকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

পূর্বে কৌশিক দেবনাথ হাইকোর্টে জামিন চাইলে গত ৭ জুলাই উচ্চ আদালত তাঁকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় আজ আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর এই সিদ্ধান্ত নেন।

আপনার মতামত লিখুন

সরেজমিন নিউজ

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বিসিএস প্রশ্ন ফাঁস: পিএসসির প্রোগ্রামার কৌশিক দেবনাথ কারাগারে

প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) অনুষ্ঠিত বিসিএস পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলায় প্রতিষ্ঠানটির প্রোগ্রামার কৌশিক দেবনাথকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ সোমবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এই আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী কৌশিক দেবনাথ বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানান। শুনানিতে তাঁর আইনজীবী মো. শরিফুল ইসলাম দাবি করেন, এজাহার ও অভিযোগপত্রে তাঁর মক্কেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা; ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষ এই জামিনের তীব্র বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের যুক্তি তর্ক শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে আসামিকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানার ইনচার্জ মো. রিপন মোল্লা জানান, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে প্রিজন ভ্যানে করে কৌশিককে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

বিসিএস প্রশ্ন ফাঁসের চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় ২০২৪ সালের ৮ জুলাই রাজধানীর পল্টন থানায় সিআইডির উপপরিদর্শক নিপ্পন চন্দ্র বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। এতে ৩১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে চলতি বছরের ১৮ মে পিএসসির সাবেক গাড়িচালক আবেদ আলীসহ ৫৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট বা অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন কুমার সাহা।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, সিআইডি তদন্তে উঠে এসেছে এটি একটি সুসংগঠিত বিশাল নেটওয়ার্ক। চক্রটির মূল হোতা আবেদ আলীর নেতৃত্বে পরীক্ষার আগেই চুক্তিভুক্ত প্রার্থীদের নির্দিষ্ট স্থানে এনে প্রশ্ন ও উত্তর মুখস্থ করানো হতো। এরপর পরীক্ষার দিন সকালে তাদের কেন্দ্রে পাঠানো হতো। বিনিময়ে অগ্রিম নেওয়া হতো মোটা অঙ্কের টাকা।

বিজি প্রেস থেকে শুরু করে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিও পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল এই চক্রের হাত। এতে পিএসসির বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী, সরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে সক্রিয় থেকে চক্রটি রাষ্ট্রীয় নিয়োগব্যবস্থার গোপনীয়তা ও স্বচ্ছতাকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

পূর্বে কৌশিক দেবনাথ হাইকোর্টে জামিন চাইলে গত ৭ জুলাই উচ্চ আদালত তাঁকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় আজ আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর এই সিদ্ধান্ত নেন।


সরেজমিন নিউজ


কপিরাইট © ২০২৬ সরেজমিন নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত