সরেজমিন নিউজ

ভিডিও ধারণ করে ধর্ষণের অভিযোগ, কেন্দুয়ায় বিএনপি নেতা বকুল বহিষ্কার



ভিডিও ধারণ করে ধর্ষণের অভিযোগ, কেন্দুয়ায় বিএনপি নেতা বকুল বহিষ্কার

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ঘটনার ভিডিও ধারণ এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুলকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মামলার দ্বিতীয় আসামি আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর করা বিজ্ঞপ্তিতে বকুলকে দল থেকে অব্যাহতির কথা জানানো হয়। বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোয়াজ্জেন হোসেন খান।

দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুলকে পৌর বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ এবং দলের সব পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ওই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ এবং পরে ভিডিও দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে গত মঙ্গলবার রাতে তার বাবা কেন্দুয়া থানায় মামলা করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় বকুলকে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলা হওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে দ্বিতীয় আসামি আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। বুধবার তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি বকুলসহ অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ওই ছাত্রীকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে একটি বাড়িতে নিয়ে যান বকুল। তখন সে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরবর্তী সময়ে ওই ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তাকে বিভিন্ন সময়ে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য কয়েকজন ব্যক্তিও এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবারের কাছে ঘটনা প্রকাশ করলে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হতো বলেও এজাহারে বলা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের মার্চ-এপ্রিলের দিকে বকুলের এক নারী সহযোগী ওই ছাত্রীকে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে অন্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে তাকে নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্তও বিভিন্ন সময়ে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১ আগস্ট ওই স্কুলছাত্রী চট্টগ্রামে তার বড় ভাইয়ের কাছে বেড়াতে গেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে দীর্ঘদিনের নির্যাতনের বিষয়টি পরিবারের কাছে জানায়।

এরপর গত ১৮ আগস্ট চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তার শারীরিক পরীক্ষা করানো হয়। পরিবারের দাবি, পরীক্ষায় সে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা যায়। ২৫ আগস্ট সে বাড়িতে ফিরে আসে। পরদিন পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়।

ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী অভিযোগ করেছে, তাকে ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হতো এবং একাধিক ব্যক্তির মাধ্যমে নির্যাতন করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিয়েও সে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে সে।

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, মামলা হওয়ার পরপরই অভিযান চালিয়ে দ্বিতীয় আসামি আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর দলীয় পদ থেকে বকুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে কেন্দুয়া পৌর বিএনপি। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ায় কী তথ্য উঠে আসে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

আপনার মতামত লিখুন

সরেজমিন নিউজ

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ভিডিও ধারণ করে ধর্ষণের অভিযোগ, কেন্দুয়ায় বিএনপি নেতা বকুল বহিষ্কার

প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ঘটনার ভিডিও ধারণ এবং তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুলকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মামলার দ্বিতীয় আসামি আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে কেন্দুয়া পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর করা বিজ্ঞপ্তিতে বকুলকে দল থেকে অব্যাহতির কথা জানানো হয়। বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোয়াজ্জেন হোসেন খান।

দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বকুলকে পৌর বিএনপির সহসাধারণ সম্পাদক, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদকসহ বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদ এবং দলের সব পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, ওই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ এবং পরে ভিডিও দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে গত মঙ্গলবার রাতে তার বাবা কেন্দুয়া থানায় মামলা করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলায় বকুলকে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলা হওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে দ্বিতীয় আসামি আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। বুধবার তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি বকুলসহ অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২০ নভেম্বর স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ওই ছাত্রীকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে একটি বাড়িতে নিয়ে যান বকুল। তখন সে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরবর্তী সময়ে ওই ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তাকে বিভিন্ন সময়ে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য কয়েকজন ব্যক্তিও এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবারের কাছে ঘটনা প্রকাশ করলে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখানো হতো বলেও এজাহারে বলা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের মার্চ-এপ্রিলের দিকে বকুলের এক নারী সহযোগী ওই ছাত্রীকে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। সেখানে অন্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে তাকে নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্তও বিভিন্ন সময়ে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১ আগস্ট ওই স্কুলছাত্রী চট্টগ্রামে তার বড় ভাইয়ের কাছে বেড়াতে গেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও পরিবারের সদস্যদের নজরে আসে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে দীর্ঘদিনের নির্যাতনের বিষয়টি পরিবারের কাছে জানায়।

এরপর গত ১৮ আগস্ট চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তার শারীরিক পরীক্ষা করানো হয়। পরিবারের দাবি, পরীক্ষায় সে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা যায়। ২৫ আগস্ট সে বাড়িতে ফিরে আসে। পরদিন পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়।

ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী অভিযোগ করেছে, তাকে ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হতো এবং একাধিক ব্যক্তির মাধ্যমে নির্যাতন করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিয়েও সে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে সে।

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, মামলা হওয়ার পরপরই অভিযান চালিয়ে দ্বিতীয় আসামি আবু মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।

এদিকে গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর দলীয় পদ থেকে বকুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে কেন্দুয়া পৌর বিএনপি। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ায় কী তথ্য উঠে আসে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।


সরেজমিন নিউজ


কপিরাইট © ২০২৬ সরেজমিন নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত