ঘুমের ঘোরে হঠাৎই কানে ভেসে আসে আর্তচিৎকার। জানালার বাইরে তাকাতেই চোখে পড়ে আগুনের তীব্র লেলিহান শিখা আর কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী। প্রাণ বাঁচাতে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার কোনো উপায় ছিল না; উল্টো ছাদেই মেলে বাঁচার শেষ আশ্রয়। কলকাতার প্রাণকেন্দ্র নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর এভাবেই নিজেদের রোমহর্ষক ও গা শিউরে ওঠা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন আতঙ্কগ্রস্ত বাসিন্দারা।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ২ জন নারী এবং ১টি শিশু রয়েছে। হতাহতদের বড় একটি অংশই বাংলাদেশি নাগরিক।
ধোঁয়াময় অন্ধকার ও ছাদের পানির ট্যাংক চিকিৎসা ও ব্যবসার কাজে এসে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই ভবনের চারতলায় ভাইসহ অবস্থান করছিলেন ঢাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আসাফুল জামাল। রাত ২টার দিকে চিৎকার শুনে ঘুম ভাঙলে দেখতে পান, গোটা সিঁড়ি ঘন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। নিচে নামা অসম্ভব দেখে ধোঁয়ার ভেতর দিয়েই কষ্টেসৃষ্টে ছাদে পৌঁছে যান তারা। সেখানে আরও ২০-২৫ জন আটকা পড়েছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় তাদের একমাত্র ভরসা ছিল ছাদের পানির ট্যাংকটি—আগুন কাছাকাছি এলে তা দিয়েই প্রতিরোধ গড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সবাই।
মোবাইলের আলোয় জীবন বাঁচানোর লড়াই হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য আসা ঢাকার আরেক বাসিন্দা মোহাম্মদ নাজমুল সরকারের অভিজ্ঞতা ছিল আরও শিউরে ওঠার মতো। তিনি জানান, দরজার কপাট খুলতেই কালো ধোঁয়ায় চারপাশ অন্ধকার হয়ে যায়, শ্বাস নেওয়াই দায় হয়ে পড়েছিল। শেষমেশ মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে সরু লোহার সিঁড়ি বেয়ে কোনোমতে ছাদে ওঠেন তিনি।
পাসপোর্ট বাঁচাতে ফের আগুনের মুখে ভবনের নিচতলার হোটেলে পরিবার নিয়ে থাকা কাওসার হোসেন জানান, হোটেল কর্মীদের ডাকে ঘুম ভাঙার পর হুড়োহুড়ি করে বের হয়ে আসেন তারা। কিন্তু পরে মনে পড়ে, ভেতরের ঘরে তাদের পাসপোর্ট রয়ে গেছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আবারও ধোঁয়ায় ঢাকা ঘরে ঢুকে শেষমেশ পাসপোর্ট উদ্ধার করেন তিনি।
হোটেল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া বাসিন্দারা হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, বিপদের সময় কর্মীদের তৎপরতা ছিল অত্যন্ত নগণ্য এবং হোটেলের জরুরি অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও কার্যকর ছিল না।
বর্তমানে দমকল ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে এবং দুর্ঘটনার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
.png)
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬
ঘুমের ঘোরে হঠাৎই কানে ভেসে আসে আর্তচিৎকার। জানালার বাইরে তাকাতেই চোখে পড়ে আগুনের তীব্র লেলিহান শিখা আর কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী। প্রাণ বাঁচাতে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার কোনো উপায় ছিল না; উল্টো ছাদেই মেলে বাঁচার শেষ আশ্রয়। কলকাতার প্রাণকেন্দ্র নিউ মার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর এভাবেই নিজেদের রোমহর্ষক ও গা শিউরে ওঠা অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন আতঙ্কগ্রস্ত বাসিন্দারা।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ২ জন নারী এবং ১টি শিশু রয়েছে। হতাহতদের বড় একটি অংশই বাংলাদেশি নাগরিক।
ধোঁয়াময় অন্ধকার ও ছাদের পানির ট্যাংক চিকিৎসা ও ব্যবসার কাজে এসে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ওই ভবনের চারতলায় ভাইসহ অবস্থান করছিলেন ঢাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আসাফুল জামাল। রাত ২টার দিকে চিৎকার শুনে ঘুম ভাঙলে দেখতে পান, গোটা সিঁড়ি ঘন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। নিচে নামা অসম্ভব দেখে ধোঁয়ার ভেতর দিয়েই কষ্টেসৃষ্টে ছাদে পৌঁছে যান তারা। সেখানে আরও ২০-২৫ জন আটকা পড়েছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের সময় তাদের একমাত্র ভরসা ছিল ছাদের পানির ট্যাংকটি—আগুন কাছাকাছি এলে তা দিয়েই প্রতিরোধ গড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সবাই।
মোবাইলের আলোয় জীবন বাঁচানোর লড়াই হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য আসা ঢাকার আরেক বাসিন্দা মোহাম্মদ নাজমুল সরকারের অভিজ্ঞতা ছিল আরও শিউরে ওঠার মতো। তিনি জানান, দরজার কপাট খুলতেই কালো ধোঁয়ায় চারপাশ অন্ধকার হয়ে যায়, শ্বাস নেওয়াই দায় হয়ে পড়েছিল। শেষমেশ মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে সরু লোহার সিঁড়ি বেয়ে কোনোমতে ছাদে ওঠেন তিনি।
পাসপোর্ট বাঁচাতে ফের আগুনের মুখে ভবনের নিচতলার হোটেলে পরিবার নিয়ে থাকা কাওসার হোসেন জানান, হোটেল কর্মীদের ডাকে ঘুম ভাঙার পর হুড়োহুড়ি করে বের হয়ে আসেন তারা। কিন্তু পরে মনে পড়ে, ভেতরের ঘরে তাদের পাসপোর্ট রয়ে গেছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আবারও ধোঁয়ায় ঢাকা ঘরে ঢুকে শেষমেশ পাসপোর্ট উদ্ধার করেন তিনি।
হোটেল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া বাসিন্দারা হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, বিপদের সময় কর্মীদের তৎপরতা ছিল অত্যন্ত নগণ্য এবং হোটেলের জরুরি অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও কার্যকর ছিল না।
বর্তমানে দমকল ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে এবং দুর্ঘটনার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
.png)
আপনার মতামত লিখুন