সরেজমিন নিউজ

পারস্য উপসাগরে নাটকীয় মোড়: হরমুজ প্রণালির একক নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে ইরান, চালকের আসনে আমেরিকা?



পারস্য উপসাগরে নাটকীয় মোড়: হরমুজ প্রণালির একক নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে ইরান, চালকের আসনে আমেরিকা?

মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ও কৌশলগত যুদ্ধের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠা হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের একচ্ছত্র প্রাধান্য ও নিয়ন্ত্রণ হারাতে বসেছে ইরান। পারস্য উপসাগরের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে মার্কিন নৌবাহিনীর তৎপরতা ও টহল উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ার পর সমুদ্রসীমার সামরিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন সংস্থার সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা যাচ্ছে, কৌশলগতভাবে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে অত্যন্ত শক্ত অবস্থানে পৌঁছেছে এবং বিপরীতে তেহরানের সামর্থ্য ও নিয়ন্ত্রণ দিন দিন শিথিল হয়ে পড়ছে।

শিপিং ডেটা অ্যানালিটিক্স সংস্থা কেপলারের (Kpler) তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী জলযানের ৮০ শতাংশেরই বেশি অংশ জাতিসংঘের অনুমোদিত ওমানি রুট ব্যবহার করেছে। সমুদ্রসীমার এই পথটি ব্যবহারে ইরানের তীব্র বিরোধিতা ও আপত্তি থাকা সত্ত্বেও, মার্কিন নৌবাহিনীর দেওয়া নিবিড় সুরক্ষার ওপর আস্থা রেখে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো তেহরানের দাবি উপেক্ষা করছে। কেপলারের অপরিশোধিত তেল বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান হোমাউন ফালাকশাহীর মতে, এই প্রবণতা প্রমাণ করে যে ইরান কৌশলগতভাবে এই সমুদ্রপথের ওপর থেকে নিজেদের আগের মতো কর্তৃত্ব ধরে রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে।

মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও ওমানি রুট দিয়ে বাণিজ্য জাহাজের চলাচল ছিল প্রায় শূন্যের কোঠায়। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনের সাথে সাথে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রগামী জাহাজগুলোর রুট পরিবর্তন করায় বিপাকে পড়েছে ইরান। জলপথটির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না থাকায় বসন্তকালের মতো জাহাজ থেকে টোল বা শুল্ক আদায় করার ক্ষমতাও হারিয়েছে দেশটি।

জ্বালানি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান পিকারিং এনার্জি পার্টনার্সের প্রতিষ্ঠাতা ড্যান পিকারিং বিষয়টিকে ব্যাখা করে জানান, মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশই বাণিজ্যিক চলাচলের জন্য ইরানকে বাড়তি টোল দিতে আগ্রহী নয়। ফলে মার্কিন নৌবাহিনীর সুরক্ষাবলয়ে ওমানি রুটটিই এখন সব বাণিজ্য জাহাজের কাছে সবচেয়ে নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য বিকল্প হয়ে উঠেছে। এর ফলে ভূ-রাজনৈতিক প্রভাবের পাশাপাশি ইরান বড় ধরনের শুল্ক আয় থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

সরেজমিন নিউজ

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


পারস্য উপসাগরে নাটকীয় মোড়: হরমুজ প্রণালির একক নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে ইরান, চালকের আসনে আমেরিকা?

প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ও কৌশলগত যুদ্ধের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠা হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের একচ্ছত্র প্রাধান্য ও নিয়ন্ত্রণ হারাতে বসেছে ইরান। পারস্য উপসাগরের এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে মার্কিন নৌবাহিনীর তৎপরতা ও টহল উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ার পর সমুদ্রসীমার সামরিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন সংস্থার সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা যাচ্ছে, কৌশলগতভাবে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে অত্যন্ত শক্ত অবস্থানে পৌঁছেছে এবং বিপরীতে তেহরানের সামর্থ্য ও নিয়ন্ত্রণ দিন দিন শিথিল হয়ে পড়ছে।

শিপিং ডেটা অ্যানালিটিক্স সংস্থা কেপলারের (Kpler) তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী জলযানের ৮০ শতাংশেরই বেশি অংশ জাতিসংঘের অনুমোদিত ওমানি রুট ব্যবহার করেছে। সমুদ্রসীমার এই পথটি ব্যবহারে ইরানের তীব্র বিরোধিতা ও আপত্তি থাকা সত্ত্বেও, মার্কিন নৌবাহিনীর দেওয়া নিবিড় সুরক্ষার ওপর আস্থা রেখে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো তেহরানের দাবি উপেক্ষা করছে। কেপলারের অপরিশোধিত তেল বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান হোমাউন ফালাকশাহীর মতে, এই প্রবণতা প্রমাণ করে যে ইরান কৌশলগতভাবে এই সমুদ্রপথের ওপর থেকে নিজেদের আগের মতো কর্তৃত্ব ধরে রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে।

মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেও ওমানি রুট দিয়ে বাণিজ্য জাহাজের চলাচল ছিল প্রায় শূন্যের কোঠায়। তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তনের সাথে সাথে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রগামী জাহাজগুলোর রুট পরিবর্তন করায় বিপাকে পড়েছে ইরান। জলপথটির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না থাকায় বসন্তকালের মতো জাহাজ থেকে টোল বা শুল্ক আদায় করার ক্ষমতাও হারিয়েছে দেশটি।

জ্বালানি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান পিকারিং এনার্জি পার্টনার্সের প্রতিষ্ঠাতা ড্যান পিকারিং বিষয়টিকে ব্যাখা করে জানান, মধ্যপ্রাচ্যের অধিকাংশ দেশই বাণিজ্যিক চলাচলের জন্য ইরানকে বাড়তি টোল দিতে আগ্রহী নয়। ফলে মার্কিন নৌবাহিনীর সুরক্ষাবলয়ে ওমানি রুটটিই এখন সব বাণিজ্য জাহাজের কাছে সবচেয়ে নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য বিকল্প হয়ে উঠেছে। এর ফলে ভূ-রাজনৈতিক প্রভাবের পাশাপাশি ইরান বড় ধরনের শুল্ক আয় থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।


সরেজমিন নিউজ


কপিরাইট © ২০২৬ সরেজমিন নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত