সরেজমিন নিউজ

একই পরিবারের চারজন, মরদেহ দ্রুত ফেরানোর আশ্বাস পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের



একই পরিবারের চারজন, মরদেহ দ্রুত ফেরানোর আশ্বাস পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত আটজন বাংলাদেশিসহ মোট নয়জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চার সদস্য রয়েছেন। এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছেন, নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে এবং সরকার এর যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করবে।

মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ২টা ৭ মিনিটে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘হোটেল শিখা ইন’-এর তিন তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, একটি এয়ার কন্ডিশনার (এসি) বিস্ফোরণের পর মুহূর্তে তা চারটি কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে। ঘন কালো ধোঁয়ায় পুরো ভবন ঢেকে গেলে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে এবং আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করতে গিয়ে অন্তত ৬০ জন আটকা পড়েন। খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর ৪টি ইঞ্জিন ও বিপর্যয় মোকাবিলা দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অসুস্থ অবস্থায় ৯ জনকে উদ্ধার করে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। তবে চিকিৎসকেরা তাঁদের সবাইকে মৃত ঘোষণা করেন।

কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় মেলা সম্ভব হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন কুষ্টিয়ার বেসরকারি টেলিভিশনের সাংবাদিক দেবাশিস দত্ত (৩৯), তাঁর স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৭), আড়াই বছরের শিশু সন্তান স্বর্ণশিষ দত্ত এবং শ্বশুর আকরাম আলী (৬৪)। এছাড়া সাভারের বাসিন্দা আহমেদ বাবু এবং ভারতের ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা সন্দীপ পাসওয়ান (১৯) নামে এক যুবকের পরিচয় পাওয়া গেছে। বাকি তিনজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় ওই হোটেলে অন্তত ২৫ জন বাংলাদেশি অবস্থান করছিলেন, যাদের বেশিরভাগই চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে গিয়েছিলেন।

এদিকে প্রাথমিক তদন্তের বরাতে জানা গেছে, বহুতল ভবনটিতে ন্যূনতম কোনো অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। ঘটনার পর থেকেই হোটেলের মালিক ও কর্মচারীরা পলাতক রয়েছেন। কলকাতা পুলিশ একটি মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে এবং গুরুতর আহত ৬ জনকে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উপ-হাইকমিশন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে নিবিড়ভাবে যোগাযোগ রাখছে যাতে আহতদের সুচিকিৎসা এবং নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করা যায়।

আপনার মতামত লিখুন

সরেজমিন নিউজ

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


একই পরিবারের চারজন, মরদেহ দ্রুত ফেরানোর আশ্বাস পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের

প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত আটজন বাংলাদেশিসহ মোট নয়জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চার সদস্য রয়েছেন। এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছেন, নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে এবং সরকার এর যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করবে।

মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ২টা ৭ মিনিটে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘হোটেল শিখা ইন’-এর তিন তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, একটি এয়ার কন্ডিশনার (এসি) বিস্ফোরণের পর মুহূর্তে তা চারটি কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে। ঘন কালো ধোঁয়ায় পুরো ভবন ঢেকে গেলে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে এবং আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করতে গিয়ে অন্তত ৬০ জন আটকা পড়েন। খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর ৪টি ইঞ্জিন ও বিপর্যয় মোকাবিলা দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অসুস্থ অবস্থায় ৯ জনকে উদ্ধার করে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। তবে চিকিৎসকেরা তাঁদের সবাইকে মৃত ঘোষণা করেন।

কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, নিহতদের মধ্যে ছয়জনের পরিচয় মেলা সম্ভব হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন কুষ্টিয়ার বেসরকারি টেলিভিশনের সাংবাদিক দেবাশিস দত্ত (৩৯), তাঁর স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৭), আড়াই বছরের শিশু সন্তান স্বর্ণশিষ দত্ত এবং শ্বশুর আকরাম আলী (৬৪)। এছাড়া সাভারের বাসিন্দা আহমেদ বাবু এবং ভারতের ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা সন্দীপ পাসওয়ান (১৯) নামে এক যুবকের পরিচয় পাওয়া গেছে। বাকি তিনজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় ওই হোটেলে অন্তত ২৫ জন বাংলাদেশি অবস্থান করছিলেন, যাদের বেশিরভাগই চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে গিয়েছিলেন।

এদিকে প্রাথমিক তদন্তের বরাতে জানা গেছে, বহুতল ভবনটিতে ন্যূনতম কোনো অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। ঘটনার পর থেকেই হোটেলের মালিক ও কর্মচারীরা পলাতক রয়েছেন। কলকাতা পুলিশ একটি মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে এবং গুরুতর আহত ৬ জনকে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উপ-হাইকমিশন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে নিবিড়ভাবে যোগাযোগ রাখছে যাতে আহতদের সুচিকিৎসা এবং নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করা যায়।


সরেজমিন নিউজ


কপিরাইট © ২০২৬ সরেজমিন নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত