শীর্ষ নেতৃত্বের নজিরবিহীন পদত্যাগের মুখে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের দায়িত্ব বুঝে নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পদত্যাগে তীব্র নীতি-নির্ধারণী সংকট তৈরি হওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি সেখানে প্রশাসক ও সহকারী প্রশাসক বসিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক মোস্তাকুর রহমানকে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অতিরিক্ত পরিচালক মোকাদ্দেসুল আলম ও মোশাররফ হোসেন এবং যুগ্ম পরিচালক বিমল কুমার গায়েনকে সহকারী প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগপ্রাপ্ত চার কর্মকর্তাই ইতোমধ্যে উত্তরা ফাইন্যান্সে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং পুঁজিবাজারের নিয়ম অনুযায়ী ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের এ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে নানা আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. মুখতার হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ওয়ালি উল্লাহ এবং দুই স্বতন্ত্র পরিচালক মো. নিয়ামুল কবির ও মো. রফিকুল ইসলাম একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এর ফলে পর্ষদে সদস্য সংখ্যা নেমে আসে মাত্র দুজনে, যার ফলে আইন অনুযায়ী বোর্ড সভার কোরাম পূরণে জটিলতা তৈরি হয়। উদ্ভূত প্রশাসনিক অচলাবস্থা দূর করতে এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক হস্তক্ষেপ করে এই সিদ্ধান্ত নেয়।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে ভালো আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হলেও ২০১৯ সালের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির বড় ধরনের অনিয়মের চিত্র সামনে আসে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শনে দেখা যায়, গ্রাহকের আমানত প্রতিষ্ঠানের হিসাবে না রেখে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহার, ভুয়া স্থায়ী আমানতের (এফডিআর) বিপরীতে ঋণ বিতরণ এবং অগ্রিম ও কলমানির অর্থ বেআইনিভাবে স্থানান্তরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রায় ৩ হাজার ৪৪০ কোটি টাকার অনিয়ম সংঘটিত হয়।
এসব আর্থিক বিশৃঙ্খলার দায়ে ২০২২ সালে মূল উদ্যোক্তা উত্তরা গ্রুপের প্রতিনিধিদের পর্ষদ থেকে অপসারণ করা হয়েছিল এবং পরে একাধিকবার পর্ষদ পুনর্গঠন করা হলেও শেষ পর্যন্ত সংকট অব্যাহত থাকায় প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে।
.png)
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৬
শীর্ষ নেতৃত্বের নজিরবিহীন পদত্যাগের মুখে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের দায়িত্ব বুঝে নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পদত্যাগে তীব্র নীতি-নির্ধারণী সংকট তৈরি হওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরাসরি সেখানে প্রশাসক ও সহকারী প্রশাসক বসিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক মোস্তাকুর রহমানকে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অতিরিক্ত পরিচালক মোকাদ্দেসুল আলম ও মোশাররফ হোসেন এবং যুগ্ম পরিচালক বিমল কুমার গায়েনকে সহকারী প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগপ্রাপ্ত চার কর্মকর্তাই ইতোমধ্যে উত্তরা ফাইন্যান্সে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং পুঁজিবাজারের নিয়ম অনুযায়ী ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের এ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে নানা আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. মুখতার হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ওয়ালি উল্লাহ এবং দুই স্বতন্ত্র পরিচালক মো. নিয়ামুল কবির ও মো. রফিকুল ইসলাম একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দেন। এর ফলে পর্ষদে সদস্য সংখ্যা নেমে আসে মাত্র দুজনে, যার ফলে আইন অনুযায়ী বোর্ড সভার কোরাম পূরণে জটিলতা তৈরি হয়। উদ্ভূত প্রশাসনিক অচলাবস্থা দূর করতে এবং আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক হস্তক্ষেপ করে এই সিদ্ধান্ত নেয়।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে ভালো আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত হলেও ২০১৯ সালের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটির বড় ধরনের অনিয়মের চিত্র সামনে আসে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শনে দেখা যায়, গ্রাহকের আমানত প্রতিষ্ঠানের হিসাবে না রেখে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহার, ভুয়া স্থায়ী আমানতের (এফডিআর) বিপরীতে ঋণ বিতরণ এবং অগ্রিম ও কলমানির অর্থ বেআইনিভাবে স্থানান্তরের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রায় ৩ হাজার ৪৪০ কোটি টাকার অনিয়ম সংঘটিত হয়।
এসব আর্থিক বিশৃঙ্খলার দায়ে ২০২২ সালে মূল উদ্যোক্তা উত্তরা গ্রুপের প্রতিনিধিদের পর্ষদ থেকে অপসারণ করা হয়েছিল এবং পরে একাধিকবার পর্ষদ পুনর্গঠন করা হলেও শেষ পর্যন্ত সংকট অব্যাহত থাকায় প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে।
.png)
আপনার মতামত লিখুন