সরেজমিন নিউজ

সরকারি ঋণের সুদ কমায় স্বস্তি, কমতে পারে ব্যাংক ঋণের হার



সরকারি ঋণের সুদ কমায় স্বস্তি, কমতে পারে ব্যাংক ঋণের হার

সরকারের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ নেওয়ার অন্যতম প্রধান মাধ্যম ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার গত এক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিভিন্ন মেয়াদের এসব সরকারি ঋণ উপকরণে সুদহার কমায় সরকারের ঋণ গ্রহণের ব্যয়ও কমেছে। একই সঙ্গে এর প্রভাব পড়ছে ব্যাংক ঋণের সুদহারেও।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক খাতে তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি, আমানত প্রবাহ বৃদ্ধি, রেমিট্যান্সে ইতিবাচক ধারা এবং ঋণ বিতরণ কমে যাওয়াসহ কয়েকটি কারণে সরকারি ঋণের সুদহার নিম্নমুখী হয়েছে। এর পাশাপাশি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারের ঋণ নেওয়ার প্রবৃদ্ধিও আগের অর্থবছরের তুলনায় কমেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের জুনে তিন মাস মেয়াদি ট্রেজারি বিলের গড় সুদহার ছিল ১১ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এক বছর পর চলতি বছরের জুনে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৯৯ শতাংশে। অর্থাৎ এ সময়ে সুদহার কমেছে ১ দশমিক ৭৪ শতাংশীয় পয়েন্ট।

ছয় মাস মেয়াদি ট্রেজারি বিলের সুদহারও ১১ দশমিক ৮৪ শতাংশ থেকে কমে ১০ দশমিক ২৪ শতাংশে নেমেছে। এক বছর মেয়াদি বিলের সুদহার ১১ দশমিক ৮৯ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

দীর্ঘমেয়াদি সরকারি ঋণের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। দুই বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের গড় সুদহার ১২ দশমিক ১৫ শতাংশ থেকে কমে ১০ দশমিক ৪৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তিন বছর মেয়াদি বন্ডের হার ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে নেমে হয়েছে ১০ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

পাঁচ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার ১২ দশমিক ২৬ শতাংশ থেকে কমে ১০ দশমিক ৬৩ শতাংশ হয়েছে। ১০ বছর মেয়াদি বন্ডের হার ১২ দশমিক ২৪ শতাংশ থেকে নেমে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৭১ শতাংশে।

এ ছাড়া ১৫ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদহার ১২ দশমিক ৪০ শতাংশ থেকে কমে ১০ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং ২০ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদহার একই ১২ দশমিক ৪০ শতাংশ থেকে কমে ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশে নেমেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তিন ও ছয় মাস মেয়াদি ট্রেজারি বিলের সুদহারকে বাজারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি সুদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে এসব বিলের সুদ কমলে অন্যান্য ঋণ ও বিনিয়োগের সুদহারেও এর প্রভাব পড়ে।

সঞ্চয়পত্রের সুদহার নির্ধারণের ক্ষেত্রেও ছয় মাস মেয়াদি ট্রেজারি বিলের গড় সুদহার বিবেচনায় নেওয়া হয়। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর ঋণচুক্তিতেও ভিত্তি সুদের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সরকারি ঋণপত্রের সুদহার কমার ধারাবাহিকতায় ব্যাংক ঋণের খরচও ধীরে ধীরে কমার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি ঋণের সুদহার কমে আসা একদিকে সরকারের সুদ পরিশোধের চাপ কমাতে পারে, অন্যদিকে ব্যাংকিং খাতে ঋণের ব্যয় কমার পথও তৈরি করতে পারে। এতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো এবং বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সরেজমিন নিউজ

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সরকারি ঋণের সুদ কমায় স্বস্তি, কমতে পারে ব্যাংক ঋণের হার

প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সরকারের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ নেওয়ার অন্যতম প্রধান মাধ্যম ট্রেজারি বিল ও বন্ডের সুদহার গত এক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিভিন্ন মেয়াদের এসব সরকারি ঋণ উপকরণে সুদহার কমায় সরকারের ঋণ গ্রহণের ব্যয়ও কমেছে। একই সঙ্গে এর প্রভাব পড়ছে ব্যাংক ঋণের সুদহারেও।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক খাতে তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি, আমানত প্রবাহ বৃদ্ধি, রেমিট্যান্সে ইতিবাচক ধারা এবং ঋণ বিতরণ কমে যাওয়াসহ কয়েকটি কারণে সরকারি ঋণের সুদহার নিম্নমুখী হয়েছে। এর পাশাপাশি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারের ঋণ নেওয়ার প্রবৃদ্ধিও আগের অর্থবছরের তুলনায় কমেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের জুনে তিন মাস মেয়াদি ট্রেজারি বিলের গড় সুদহার ছিল ১১ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এক বছর পর চলতি বছরের জুনে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৯৯ শতাংশে। অর্থাৎ এ সময়ে সুদহার কমেছে ১ দশমিক ৭৪ শতাংশীয় পয়েন্ট।

ছয় মাস মেয়াদি ট্রেজারি বিলের সুদহারও ১১ দশমিক ৮৪ শতাংশ থেকে কমে ১০ দশমিক ২৪ শতাংশে নেমেছে। এক বছর মেয়াদি বিলের সুদহার ১১ দশমিক ৮৯ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ১০ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

দীর্ঘমেয়াদি সরকারি ঋণের ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। দুই বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের গড় সুদহার ১২ দশমিক ১৫ শতাংশ থেকে কমে ১০ দশমিক ৪৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তিন বছর মেয়াদি বন্ডের হার ১৩ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে নেমে হয়েছে ১০ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

পাঁচ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার ১২ দশমিক ২৬ শতাংশ থেকে কমে ১০ দশমিক ৬৩ শতাংশ হয়েছে। ১০ বছর মেয়াদি বন্ডের হার ১২ দশমিক ২৪ শতাংশ থেকে নেমে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৭১ শতাংশে।

এ ছাড়া ১৫ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদহার ১২ দশমিক ৪০ শতাংশ থেকে কমে ১০ দশমিক ৮২ শতাংশ এবং ২০ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদহার একই ১২ দশমিক ৪০ শতাংশ থেকে কমে ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশে নেমেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তিন ও ছয় মাস মেয়াদি ট্রেজারি বিলের সুদহারকে বাজারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি সুদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফলে এসব বিলের সুদ কমলে অন্যান্য ঋণ ও বিনিয়োগের সুদহারেও এর প্রভাব পড়ে।

সঞ্চয়পত্রের সুদহার নির্ধারণের ক্ষেত্রেও ছয় মাস মেয়াদি ট্রেজারি বিলের গড় সুদহার বিবেচনায় নেওয়া হয়। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর ঋণচুক্তিতেও ভিত্তি সুদের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সরকারি ঋণপত্রের সুদহার কমার ধারাবাহিকতায় ব্যাংক ঋণের খরচও ধীরে ধীরে কমার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি ঋণের সুদহার কমে আসা একদিকে সরকারের সুদ পরিশোধের চাপ কমাতে পারে, অন্যদিকে ব্যাংকিং খাতে ঋণের ব্যয় কমার পথও তৈরি করতে পারে। এতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো এবং বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


সরেজমিন নিউজ


কপিরাইট © ২০২৬ সরেজমিন নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত