কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উপজেলা আহ্বায়ক কমিটিতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন—এমন একজনকে শীর্ষ পদে রাখাকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। ৩১ সদস্যের ওই কমিটিতে মো. নজরুল ইসলামকে আহ্বায়ক করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ জেলা এনসিপির আহ্বায়ক শেখ খাইরুল কবির আহমেদ ও সদস্যসচিব এ.কে.এম আরিফুর রহমান বাবুর স্বাক্ষর করা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কটিয়াদী উপজেলা শাখার নতুন আহ্বায়ক কমিটি প্রকাশ করা হয়।
কমিটি ঘোষণার পর নজরুল ইসলামের আগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় অনেকে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তিনি কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. সোহরাব উদ্দিনের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছিলেন।
নির্বাচনের সময় বিভিন্ন পত্রিকার নির্বাচনী প্রচারসংক্রান্ত ব্যানারেও নজরুল ইসলামের অংশগ্রহণ ছিল বলে জানা গেছে। ওই সময় প্রকাশিত একটি লেখায় নিজেকে অ্যাডভোকেট সোহরাব উদ্দিনের একজন কর্মী হিসেবেও উল্লেখ করেছিলেন তিনি।
সেই লেখায় নজরুল ইসলাম দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া আসনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি নির্বাচনে সোহরাব উদ্দিনের বিজয়ের জন্য এলাকাবাসীকে অভিনন্দন জানান এবং তার দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন।
নজরুল ইসলাম ওই লেখায় আরও প্রত্যাশা করেন, সোহরাব উদ্দিনের নেতৃত্বে এলাকায় আগের মতো উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের কটিয়াদী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও নজরুল ইসলাম চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
এনসিপির সদ্য ঘোষিত কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে তৃণমূলের মতামত যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। তার ভাষ্য, তিনি নিজে কমিটিতে থাকতে না চাইলেও তাকে রাখা হয়েছে এবং আপাতত নিষ্ক্রিয় থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
নজরুল ইসলামের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান ও কমিটিতে আহ্বায়ক হওয়ার বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল গ্রহণ করেননি।
তবে এনসিপির কটিয়াদী উপজেলা কমিটি গঠন নিয়ে দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক শেখ খাইরুল কবির। তিনি বলেন, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আওয়ামী লীগের কোনো কমিটিতে পদধারী ব্যক্তি কিংবা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র আন্দোলনের বিরোধিতাকারী কাউকে কমিটিতে রাখার সুযোগ নেই।
নজরুল ইসলাম সম্পর্কে শেখ খাইরুল কবির বলেন, তার কাছে আওয়ামী লীগের কোনো পদ-পদবি থাকার তথ্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি শিক্ষার্থীদের পক্ষেই ছিলেন বলে দাবি করেন জেলা এনসিপির এই নেতা।
তিনি আরও জানান, নজরুল ইসলামকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার আগে বিভিন্ন দিক থেকে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। দলের নীতিমালা অনুসরণ করেই তাকে উপজেলা আহ্বায়ক করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
.png)
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উপজেলা আহ্বায়ক কমিটিতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন—এমন একজনকে শীর্ষ পদে রাখাকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। ৩১ সদস্যের ওই কমিটিতে মো. নজরুল ইসলামকে আহ্বায়ক করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ জেলা এনসিপির আহ্বায়ক শেখ খাইরুল কবির আহমেদ ও সদস্যসচিব এ.কে.এম আরিফুর রহমান বাবুর স্বাক্ষর করা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কটিয়াদী উপজেলা শাখার নতুন আহ্বায়ক কমিটি প্রকাশ করা হয়।
কমিটি ঘোষণার পর নজরুল ইসলামের আগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় অনেকে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তিনি কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. সোহরাব উদ্দিনের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছিলেন।
নির্বাচনের সময় বিভিন্ন পত্রিকার নির্বাচনী প্রচারসংক্রান্ত ব্যানারেও নজরুল ইসলামের অংশগ্রহণ ছিল বলে জানা গেছে। ওই সময় প্রকাশিত একটি লেখায় নিজেকে অ্যাডভোকেট সোহরাব উদ্দিনের একজন কর্মী হিসেবেও উল্লেখ করেছিলেন তিনি।
সেই লেখায় নজরুল ইসলাম দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া আসনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি নির্বাচনে সোহরাব উদ্দিনের বিজয়ের জন্য এলাকাবাসীকে অভিনন্দন জানান এবং তার দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন।
নজরুল ইসলাম ওই লেখায় আরও প্রত্যাশা করেন, সোহরাব উদ্দিনের নেতৃত্বে এলাকায় আগের মতো উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের কটিয়াদী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও নজরুল ইসলাম চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
এনসিপির সদ্য ঘোষিত কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে তৃণমূলের মতামত যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি। তার ভাষ্য, তিনি নিজে কমিটিতে থাকতে না চাইলেও তাকে রাখা হয়েছে এবং আপাতত নিষ্ক্রিয় থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
নজরুল ইসলামের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান ও কমিটিতে আহ্বায়ক হওয়ার বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল গ্রহণ করেননি।
তবে এনসিপির কটিয়াদী উপজেলা কমিটি গঠন নিয়ে দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক শেখ খাইরুল কবির। তিনি বলেন, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আওয়ামী লীগের কোনো কমিটিতে পদধারী ব্যক্তি কিংবা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র আন্দোলনের বিরোধিতাকারী কাউকে কমিটিতে রাখার সুযোগ নেই।
নজরুল ইসলাম সম্পর্কে শেখ খাইরুল কবির বলেন, তার কাছে আওয়ামী লীগের কোনো পদ-পদবি থাকার তথ্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি জুলাইয়ের ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি শিক্ষার্থীদের পক্ষেই ছিলেন বলে দাবি করেন জেলা এনসিপির এই নেতা।
তিনি আরও জানান, নজরুল ইসলামকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার আগে বিভিন্ন দিক থেকে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। দলের নীতিমালা অনুসরণ করেই তাকে উপজেলা আহ্বায়ক করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
.png)
আপনার মতামত লিখুন