আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি তাঁর জামিনের আবেদন প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছেন। স্বামীর মৃত্যুর পর এখন আর জামিন নিয়ে বাড়ি ফেরার প্রয়োজন বোধ করছেন না বলে ট্রাইব্যুনালকে জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় হাজির করা হয় দীপু মনিকে। এদিন তাঁর জামিন আবেদনের শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল।
শুনানি শুরুর আগে ট্রাইব্যুনালের কাছে কথা বলার অনুমতি চান সাবেক এই মন্ত্রী। অনুমতি পাওয়ার পর কাঠগড়ায় থাকা মাইক্রোফোনে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি।
দীপু মনি বলেন, তিনি প্রায় দুই বছর ধরে কারাগারে আছেন। গত ২৬ এপ্রিল তাঁর আইনজীবী জামিনের আবেদন করেছিলেন। তবে এখন তিনি আর জামিন চান না; বরং সেই আবেদন প্রত্যাহার করতে চান।
এর কারণ হিসেবে স্বামীর মৃত্যুর কথা উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর স্বামী তৌফিক নেওয়াজ দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন এবং প্রায় সাত বছর শয্যাশায়ী অবস্থায় ছিলেন। বাকশক্তি হারিয়ে ফেলায় চোখের পলকের মাধ্যমে তিনি অনেক সময় নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতেন বলেও ট্রাইব্যুনালকে জানান দীপু মনি।
সাবেক শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালনের সময়ও তিনি অসুস্থ স্বামীর যত্ন নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তাঁকে কারাগারে থাকায় স্বামীর পাশে থাকা সম্ভব হয়নি।
দীপু মনি জানান, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় কয়েক মাস আগে তাঁর স্বামীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তখন তাঁর কাছে থাকার জন্যই জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু জীবনের দীর্ঘ সময়ের সঙ্গীকে শেষ সময়ে দেখতে যেতে পারেননি তিনি।
গত ১৮ আগস্ট রাতে তৌফিক নেওয়াজ মারা যান।
দীপু মনি বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর এখন আর বাড়িতে ফিরে যাওয়ার তাড়া তাঁর নেই। তাঁর ভাষায়, সন্তানরা জামিন চাইলেও তিনি নিজে আর কার কাছে যাওয়ার জন্য জামিন চাইবেন—সেই প্রয়োজনটুকুও আর নেই।
তাঁর বক্তব্য শুনে ট্রাইব্যুনাল বলেন, বিষয়টি নিয়ে তাঁরা অত্যন্ত ব্যথিত। দীপু মনির আবেদনের যৌক্তিকতা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ট্রাইব্যুনাল। তবে মামলার ক্ষেত্রে তাঁদের আরও বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিতে হয় বলে জানানো হয়।
এদিন দীপু মনির জামিন আবেদনের শুনানি শেষ হয়নি। পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১-এর অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
.png)
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি তাঁর জামিনের আবেদন প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছেন। স্বামীর মৃত্যুর পর এখন আর জামিন নিয়ে বাড়ি ফেরার প্রয়োজন বোধ করছেন না বলে ট্রাইব্যুনালকে জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় হাজির করা হয় দীপু মনিকে। এদিন তাঁর জামিন আবেদনের শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল।
শুনানি শুরুর আগে ট্রাইব্যুনালের কাছে কথা বলার অনুমতি চান সাবেক এই মন্ত্রী। অনুমতি পাওয়ার পর কাঠগড়ায় থাকা মাইক্রোফোনে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি।
দীপু মনি বলেন, তিনি প্রায় দুই বছর ধরে কারাগারে আছেন। গত ২৬ এপ্রিল তাঁর আইনজীবী জামিনের আবেদন করেছিলেন। তবে এখন তিনি আর জামিন চান না; বরং সেই আবেদন প্রত্যাহার করতে চান।
এর কারণ হিসেবে স্বামীর মৃত্যুর কথা উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর স্বামী তৌফিক নেওয়াজ দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন এবং প্রায় সাত বছর শয্যাশায়ী অবস্থায় ছিলেন। বাকশক্তি হারিয়ে ফেলায় চোখের পলকের মাধ্যমে তিনি অনেক সময় নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতেন বলেও ট্রাইব্যুনালকে জানান দীপু মনি।
সাবেক শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালনের সময়ও তিনি অসুস্থ স্বামীর যত্ন নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তাঁকে কারাগারে থাকায় স্বামীর পাশে থাকা সম্ভব হয়নি।
দীপু মনি জানান, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় কয়েক মাস আগে তাঁর স্বামীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তখন তাঁর কাছে থাকার জন্যই জামিনের আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু জীবনের দীর্ঘ সময়ের সঙ্গীকে শেষ সময়ে দেখতে যেতে পারেননি তিনি।
গত ১৮ আগস্ট রাতে তৌফিক নেওয়াজ মারা যান।
দীপু মনি বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর এখন আর বাড়িতে ফিরে যাওয়ার তাড়া তাঁর নেই। তাঁর ভাষায়, সন্তানরা জামিন চাইলেও তিনি নিজে আর কার কাছে যাওয়ার জন্য জামিন চাইবেন—সেই প্রয়োজনটুকুও আর নেই।
তাঁর বক্তব্য শুনে ট্রাইব্যুনাল বলেন, বিষয়টি নিয়ে তাঁরা অত্যন্ত ব্যথিত। দীপু মনির আবেদনের যৌক্তিকতা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ট্রাইব্যুনাল। তবে মামলার ক্ষেত্রে তাঁদের আরও বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিতে হয় বলে জানানো হয়।
এদিন দীপু মনির জামিন আবেদনের শুনানি শেষ হয়নি। পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১-এর অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
.png)
আপনার মতামত লিখুন