সরেজমিন নিউজ

টানা তৃতীয় সপ্তাহে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী, বাড়তে পারে দেশেও



টানা তৃতীয় সপ্তাহে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী, বাড়তে পারে দেশেও

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে ফের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। দুর্বল মার্কিন ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের বন্ড পুনঃক্রয়ের পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনার খবরের পর মূল্যবান ধাতুটির দাম বেড়েছে। এ নিয়ে টানা তৃতীয় সপ্তাহে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির পথে রয়েছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টা ৫ মিনিট পর্যন্ত স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০.৪ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৫৩৭ দশমিক ৪১ ডলারে পৌঁছায়। এর আগের কার্যদিবসে স্বর্ণের দাম জুনের শুরুর পর সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠেছিল। চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত ধাতুটির দাম বেড়েছে ৩.৬ শতাংশ।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটেও স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল। সেখানে প্রতি আউন্সের দাম ০.৫ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৫৯৩ দশমিক ৯০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

ডলারের দরপতনে স্বর্ণে বাড়ছে আগ্রহ

চলতি সপ্তাহে মার্কিন ডলারের মূল্য কমেছে। এর ফলে ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ বিশ্বের অন্যান্য দেশের ক্রেতাদের কাছে তুলনামূলক সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে। এতে স্বর্ণ কেনার আগ্রহ বাড়ছে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ড পুনঃক্রয়ের পরিকল্পনাও স্বর্ণের বাজারে প্রভাব ফেলেছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, সরকার ভবিষ্যতে ট্রেজারি বন্ড পুনঃক্রয়ের পরিমাণ আরও বাড়ানোর কথা বিবেচনা করতে পারে।

এর আগে বুধবার ট্রেজারি বিভাগ জানায়, আগামী প্রান্তিকে দীর্ঘমেয়াদি সিকিউরিটিজ পুনঃক্রয়ের পরিমাণ দ্বিগুণ করা হবে। প্রতিটি কার্যক্রমে এর পরিমাণ কমপক্ষে ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে সরকারের ঋণ ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের পরিবর্তন ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে সতর্ক অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ফেডের দুই কর্মকর্তা।

ফেডের সিদ্ধান্তের দিকে বাজারের নজর

স্বর্ণের পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ওপর। সুদের হার নিয়ে বাজারের প্রত্যাশায় পরিবর্তন এলে তার প্রভাব পড়তে পারে স্বর্ণের দামেও বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত মার্কিন শ্রমবাজারের তথ্যেও কিছুটা স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গত সপ্তাহে বেকার ভাতার জন্য নতুন আবেদন সামান্য কমেছে। যদিও জুলাইয়ে কর্মসংস্থানে অপ্রত্যাশিত পতন হয়েছিল, নতুন তথ্য থেকে শ্রমবাজার এখনো মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্ব দিয়ে ফেডের নীতিনির্ধারণ অব্যাহত রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।

সিএমই ফেডওয়াচের হিসাব অনুযায়ী, বাজারসংশ্লিষ্টরা আগামী মাসে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা ৬৩ শতাংশ বলে মনে করছেন। একই সময়ে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ৩৭ শতাংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সাধারণত মূল্যস্ফীতির সময় স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সুদের হার বাড়লে কোনো সুদ বা নির্দিষ্ট আয় না দেওয়া স্বর্ণে বিনিয়োগের আকর্ষণ তুলনামূলকভাবে কমে যেতে পারে।

ইরান ইস্যুতেও নজর বাজারের

ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও স্বর্ণের বাজারে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পদক্ষেপের প্রভাব রয়েছে। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।

এ ধরনের ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা সাধারণত বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকতে উৎসাহিত করে। ফলে স্বর্ণের বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে।

বাড়ছে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম

শুক্রবার অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। স্পট রুপার দাম ১.৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৮ দশমিক ৯৩ ডলারে উঠেছে।

একই সময়ে প্লাটিনামের দাম ২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮৬৫ দশমিক ২৯ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩৪৪ দশমিক ৪৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। চলতি সপ্তাহে তিনটি ধাতুর দামই বৃদ্ধির ধারায় রয়েছে।

দেশের বাজারেও বাড়তে পারে স্বর্ণ-রুপার দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুর দাম বাড়ার প্রভাব বাংলাদেশের বাজারেও পড়তে পারে। ফলে দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম নতুন করে সমন্বয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম বাড়িয়েছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ওই দফায় ভরিতে স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা এবং রুপার দাম ২৩৩ টাকা বাড়ানো হয়।

বর্তমান নির্ধারিত দামে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের মূল্য ২ লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৯ হাজার ৭৮১ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৭ হাজার ৩৫৫ টাকা।

এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতিতে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ১৯৬ টাকা।

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত নির্ধারিত মূল্য দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের নকশা অনুযায়ী মজুরি আলাদাভাবে প্রযোজ্য হবে।

স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় ক্রেতার কাছ থেকে আলাদা করে ভ্যাট নেওয়ার সুযোগ নেই। অন্যদিকে নির্ধারিত ভ্যাট, মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে অলঙ্কার বিনিময় বা ক্রয়ের ক্ষেত্রে বাজুসের প্রচলিত নিয়ম বহাল থাকবে।

বছরে ১০৫ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয়

চলতি বছরে এ পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ১০৫ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৩ দফায় দাম বাড়ানো হয়েছে, ৫১ দফায় কমানো হয়েছে এবং এক দফায় ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।

এর আগের বছর ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম মোট ৯৩ বার পরিবর্তন করা হয়েছিল। ওই সময় ৬৪ বার দাম বাড়ানো হলেও ২৯ বার কমানো হয়েছিল।

স্বর্ণের পাশাপাশি গত বৃহস্পতিবার রুপার দামও বাড়ানো হয়। ভরিতে ২৩৩ টাকা বৃদ্ধির পর ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩০৭ টাকা।

২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে রুপার দাম ৬৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ৩০ বার কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে রুপার দাম মোট ১৩ দফা পরিবর্তন করা হয়েছিল; এর মধ্যে ১০ বার বাড়ানো এবং ৩ বার কমানো হয়।

আপনার মতামত লিখুন

সরেজমিন নিউজ

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


টানা তৃতীয় সপ্তাহে স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী, বাড়তে পারে দেশেও

প্রকাশের তারিখ : ২১ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে ফের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। দুর্বল মার্কিন ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের বন্ড পুনঃক্রয়ের পরিমাণ বাড়ানোর পরিকল্পনার খবরের পর মূল্যবান ধাতুটির দাম বেড়েছে। এ নিয়ে টানা তৃতীয় সপ্তাহে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির পথে রয়েছে।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টা ৫ মিনিট পর্যন্ত স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ০.৪ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৫৩৭ দশমিক ৪১ ডলারে পৌঁছায়। এর আগের কার্যদিবসে স্বর্ণের দাম জুনের শুরুর পর সর্বোচ্চ অবস্থানে উঠেছিল। চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত ধাতুটির দাম বেড়েছে ৩.৬ শতাংশ।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটেও স্বর্ণের দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল। সেখানে প্রতি আউন্সের দাম ০.৫ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৫৯৩ দশমিক ৯০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

ডলারের দরপতনে স্বর্ণে বাড়ছে আগ্রহ

চলতি সপ্তাহে মার্কিন ডলারের মূল্য কমেছে। এর ফলে ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ বিশ্বের অন্যান্য দেশের ক্রেতাদের কাছে তুলনামূলক সাশ্রয়ী হয়ে উঠেছে। এতে স্বর্ণ কেনার আগ্রহ বাড়ছে বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ড পুনঃক্রয়ের পরিকল্পনাও স্বর্ণের বাজারে প্রভাব ফেলেছে। মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, সরকার ভবিষ্যতে ট্রেজারি বন্ড পুনঃক্রয়ের পরিমাণ আরও বাড়ানোর কথা বিবেচনা করতে পারে।

এর আগে বুধবার ট্রেজারি বিভাগ জানায়, আগামী প্রান্তিকে দীর্ঘমেয়াদি সিকিউরিটিজ পুনঃক্রয়ের পরিমাণ দ্বিগুণ করা হবে। প্রতিটি কার্যক্রমে এর পরিমাণ কমপক্ষে ৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে সরকারের ঋণ ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের পরিবর্তন ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়ে সতর্ক অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ফেডের দুই কর্মকর্তা।

ফেডের সিদ্ধান্তের দিকে বাজারের নজর

স্বর্ণের পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ওপর। সুদের হার নিয়ে বাজারের প্রত্যাশায় পরিবর্তন এলে তার প্রভাব পড়তে পারে স্বর্ণের দামেও বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত মার্কিন শ্রমবাজারের তথ্যেও কিছুটা স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গত সপ্তাহে বেকার ভাতার জন্য নতুন আবেদন সামান্য কমেছে। যদিও জুলাইয়ে কর্মসংস্থানে অপ্রত্যাশিত পতন হয়েছিল, নতুন তথ্য থেকে শ্রমবাজার এখনো মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্ব দিয়ে ফেডের নীতিনির্ধারণ অব্যাহত রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।

সিএমই ফেডওয়াচের হিসাব অনুযায়ী, বাজারসংশ্লিষ্টরা আগামী মাসে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা ৬৩ শতাংশ বলে মনে করছেন। একই সময়ে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ৩৭ শতাংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সাধারণত মূল্যস্ফীতির সময় স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সুদের হার বাড়লে কোনো সুদ বা নির্দিষ্ট আয় না দেওয়া স্বর্ণে বিনিয়োগের আকর্ষণ তুলনামূলকভাবে কমে যেতে পারে।

ইরান ইস্যুতেও নজর বাজারের

ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও স্বর্ণের বাজারে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য পদক্ষেপের প্রভাব রয়েছে। ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে।

এ ধরনের ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা সাধারণত বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকতে উৎসাহিত করে। ফলে স্বর্ণের বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে।

বাড়ছে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম

শুক্রবার অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। স্পট রুপার দাম ১.৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৮ দশমিক ৯৩ ডলারে উঠেছে।

একই সময়ে প্লাটিনামের দাম ২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮৬৫ দশমিক ২৯ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩৪৪ দশমিক ৪৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। চলতি সপ্তাহে তিনটি ধাতুর দামই বৃদ্ধির ধারায় রয়েছে।

দেশের বাজারেও বাড়তে পারে স্বর্ণ-রুপার দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান ধাতুর দাম বাড়ার প্রভাব বাংলাদেশের বাজারেও পড়তে পারে। ফলে দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম নতুন করে সমন্বয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দেশের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার দাম বাড়িয়েছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ওই দফায় ভরিতে স্বর্ণের দাম ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা এবং রুপার দাম ২৩৩ টাকা বাড়ানো হয়।

বর্তমান নির্ধারিত দামে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের মূল্য ২ লাখ ৪০ হাজার ৬২৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২৯ হাজার ৭৮১ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৯৭ হাজার ৩৫৫ টাকা।

এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতিতে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ১৯৬ টাকা।

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত নির্ধারিত মূল্য দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের নকশা অনুযায়ী মজুরি আলাদাভাবে প্রযোজ্য হবে।

স্বর্ণ ও রুপার অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় ক্রেতার কাছ থেকে আলাদা করে ভ্যাট নেওয়ার সুযোগ নেই। অন্যদিকে নির্ধারিত ভ্যাট, মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে অলঙ্কার বিনিময় বা ক্রয়ের ক্ষেত্রে বাজুসের প্রচলিত নিয়ম বহাল থাকবে।

বছরে ১০৫ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয়

চলতি বছরে এ পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ১০৫ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৩ দফায় দাম বাড়ানো হয়েছে, ৫১ দফায় কমানো হয়েছে এবং এক দফায় ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।

এর আগের বছর ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম মোট ৯৩ বার পরিবর্তন করা হয়েছিল। ওই সময় ৬৪ বার দাম বাড়ানো হলেও ২৯ বার কমানো হয়েছিল।

স্বর্ণের পাশাপাশি গত বৃহস্পতিবার রুপার দামও বাড়ানো হয়। ভরিতে ২৩৩ টাকা বৃদ্ধির পর ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩০৭ টাকা।

২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে রুপার দাম ৬৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ৩০ বার কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে রুপার দাম মোট ১৩ দফা পরিবর্তন করা হয়েছিল; এর মধ্যে ১০ বার বাড়ানো এবং ৩ বার কমানো হয়।


সরেজমিন নিউজ


কপিরাইট © ২০২৬ সরেজমিন নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত