সরেজমিন নিউজ

পাকুন্দিয়ায় সড়ক যেন মৃত্যুফাঁদ, কয়েক মাসে ঝরেছে বহু প্রাণ



পাকুন্দিয়ায় সড়ক যেন মৃত্যুফাঁদ, কয়েক মাসে ঝরেছে বহু প্রাণ

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনা যেন নিত্যদিনের আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকা–কিশোরগঞ্জ মহাসড়কসহ উপজেলার বিভিন্ন সড়কে গত কয়েক মাসে একের পর এক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে বহু মানুষের। কোথাও বাস-পিকআপের সংঘর্ষ, কোথাও ট্রাকের চাপায় অটোরিকশা, আবার কোথাও পথচারী কিংবা মোটরসাইকেল আরোহী হয়েছেন দুর্ঘটনার শিকার। সর্বশেষ শনিবার (২২ আগস্ট) দুর্ঘটনা দেখতে গিয়ে প্রাইভেটকারের চাপায় নুরুজ্জামান (৬০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

২৯ এপ্রিল পাকুন্দিয়া পৌরসভার শ্রীরামদী এলাকায় ঢাকা–কিশোরগঞ্জ সড়কে একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের জমিতে উল্টে যায়। একটি স্কুলছাত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে চালক হঠাৎ ব্রেক করলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারায় বলে স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়। এতে নারী ও শিশুসহ অন্তত ২০ যাত্রী আহত হন। আহতদের কয়েকজনকে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়।

জুন মাসে দুর্ঘটনার চিত্র আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

৪ জুন পাকুন্দিয়া বাইপাসসংলগ্ন ফকিরপাড়া এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি পিকআপ ভ্যানের চাপায় ফেরদৌস শিকদার (৪৫) নামে এক পথচারী নিহত হন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাকে সাবেক ট্রাকচালক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর মাত্র একদিন আগে, ৩ জুন কোষাকান্দা এলাকায় মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার সংঘর্ষে আসিবুল্লাহ সজীব (২০) গুরুতর আহত হন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

১১ জুন শ্রীরামদী সরকারি হিমাগারসংলগ্ন ঢাকা–কিশোরগঞ্জ সড়কে মালবাহী ট্রাকের চাপায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী বাদল মিয়া (৪৫) ও ইছাম উদ্দিন (৫০) নিহত হন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হন।

এরপর ১৪ জুন মির্জাপুর শ্মশানঘাটসংলগ্ন সড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় রুবেল মিয়া (২৬) নিহত হন। অন্য একটি মোটরসাইকেলকে পাশ কাটাতে গিয়ে তিনি সড়কে পড়ে গেলে দ্রুতগতির একটি সিএনজি তাকে চাপা দেয় বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে বাসস জানিয়েছে।

৬ জুলাই পাকুন্দিয়ার সুখিয়াবাজার এলাকায় ঘটে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। ঢাকা–কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের ব্র্যাক ব্যাংকের সামনে যাত্রীবাহী বাস ও গরুবাহী পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে পিকআপে থাকা তিনজন নিহত হন। দুর্ঘটনায় পিকআপে থাকা ছয়টি গরুও মারা যায়। আহত হন বাসের চালক ও সহযোগীসহ কয়েকজন।

এ ঘটনার পরও দুর্ঘটনার ধারাবাহিকতা থামেনি। ২৪ জুলাই চিলাকাড়া মৌলভীবাড়ি এলাকায় বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে মাইক্রোবাসচালক নিহত হন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

আগস্ট মাসেও পাকুন্দিয়ার সড়কে দুর্ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।

৮ আগস্ট বরাটিয়া চৌরাস্তা এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি ইজিবাইকে বাসের ধাক্কায় দুই যাত্রী নিহত হন। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ঘটনার পর দুর্ঘটনায় নিহতদের জন্য স্থানীয়ভাবে দোয়া ও কোরআন খতমের আয়োজন করা হয়। ৬ আগস্ট পাকুন্দিয়ায় সাম্প্রতিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের জন্য এমন একটি কর্মসূচি পালনের খবরও প্রকাশিত হয়েছে।

এরপর ১৯ আগস্ট সুখিয়াবাজারসংলগ্ন এগারসিন্দুর কোল্ড স্টোরেজ এলাকায় মাছবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী—নুরু মিয়া (৬০) ও তার স্ত্রী আনোয়ারা (৫৮)—নিহত হন। এ ঘটনায় তাদের মেয়ে মারজিয়াসহ আরও তিনজন আহত হন।

২২ আগস্ট সকালে বাহাদিয়া পাঁচপীরের মাজারসংলগ্ন ঢাকা–কিশোরগঞ্জ সড়কে দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়। এতে কয়েকজন আহত হন।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা নুরুজ্জামান (৬০)। রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি প্রাইভেটকার তাকে ধাক্কা দিলে গুরুতর আহত হন তিনি। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

নুরুজ্জামানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে দুর্ঘটনায় জড়িত প্রাইভেটকারসহ আরও কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর এবং সড়কে ব্যারিকেড দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাইভেটকারচালককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকুন্দিয়া থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান।

একই মহাসড়কে কেন বারবার দুর্ঘটনা?

পাকুন্দিয়ার সাম্প্রতিক দুর্ঘটনাগুলোর ধরন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অধিকাংশ ঘটনাই ঢাকা–কিশোরগঞ্জ মহাসড়ক বা এর সঙ্গে সংযুক্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ঘটেছে। দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের তালিকায় রয়েছে বাস, ট্রাক, পিকআপ, মাইক্রোবাস, সিএনজি, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল।

জুলাইয়ের শুরুতে প্রকাশিত স্থানীয় এক প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বেপরোয়া গতি, ওভারটেকিং, তিন চাকার যানবাহন, চালকের অসতর্কতা এবং ট্রাফিক আইন না মানাকে দুর্ঘটনার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে পুলিশের বক্তব্যেও যানবাহনের গতি ও ট্রাফিক আইন না মানার বিষয়টি উঠে এসেছে। ফলে শুধু সড়কের অবকাঠামো নয়, চালকের দক্ষতা, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রকাশিত ঘটনাগুলোতে দেখা যায়, কখনো একই এলাকায় বাস ও পিকআপের সংঘর্ষ, কখনো ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশার যাত্রী নিহত, আবার কখনো পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে।

বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো—একটি দুর্ঘটনার পর সেটি দেখতে গিয়ে আরেকজনের প্রাণহানিও ঘটেছে। ২২ আগস্ট নুরুজ্জামানের মৃত্যু সেই ঝুঁকিটিই সামনে এনেছে।

এদিকে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহেই এক প্রতিবেদনে এক মাসের কিছু বেশি সময়ে পাকুন্দিয়ায় ১৪ জনের মৃত্যুর তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল। এরপরও জুলাই ও আগস্টে একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

ফলে স্থানীয়দের মধ্যে এখন প্রশ্ন উঠছে—আর কত প্রাণ গেলে পাকুন্দিয়ার ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ও দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে?

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করা, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ট্রাফিক নজরদারি, অবৈধ ও অনিরাপদ যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং চালকদের আইন মেনে চলতে বাধ্য করার দাবি এখন স্থানীয়দের অন্যতম প্রধান প্রত্যাশা।

আপনার মতামত লিখুন

সরেজমিন নিউজ

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


পাকুন্দিয়ায় সড়ক যেন মৃত্যুফাঁদ, কয়েক মাসে ঝরেছে বহু প্রাণ

প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনা যেন নিত্যদিনের আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকা–কিশোরগঞ্জ মহাসড়কসহ উপজেলার বিভিন্ন সড়কে গত কয়েক মাসে একের পর এক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে বহু মানুষের। কোথাও বাস-পিকআপের সংঘর্ষ, কোথাও ট্রাকের চাপায় অটোরিকশা, আবার কোথাও পথচারী কিংবা মোটরসাইকেল আরোহী হয়েছেন দুর্ঘটনার শিকার। সর্বশেষ শনিবার (২২ আগস্ট) দুর্ঘটনা দেখতে গিয়ে প্রাইভেটকারের চাপায় নুরুজ্জামান (৬০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

২৯ এপ্রিল পাকুন্দিয়া পৌরসভার শ্রীরামদী এলাকায় ঢাকা–কিশোরগঞ্জ সড়কে একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের জমিতে উল্টে যায়। একটি স্কুলছাত্রীকে বাঁচাতে গিয়ে চালক হঠাৎ ব্রেক করলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারায় বলে স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়। এতে নারী ও শিশুসহ অন্তত ২০ যাত্রী আহত হন। আহতদের কয়েকজনকে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়।

জুন মাসে দুর্ঘটনার চিত্র আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

৪ জুন পাকুন্দিয়া বাইপাসসংলগ্ন ফকিরপাড়া এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি পিকআপ ভ্যানের চাপায় ফেরদৌস শিকদার (৪৫) নামে এক পথচারী নিহত হন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে তাকে সাবেক ট্রাকচালক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর মাত্র একদিন আগে, ৩ জুন কোষাকান্দা এলাকায় মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার সংঘর্ষে আসিবুল্লাহ সজীব (২০) গুরুতর আহত হন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

১১ জুন শ্রীরামদী সরকারি হিমাগারসংলগ্ন ঢাকা–কিশোরগঞ্জ সড়কে মালবাহী ট্রাকের চাপায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী বাদল মিয়া (৪৫) ও ইছাম উদ্দিন (৫০) নিহত হন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হন।

এরপর ১৪ জুন মির্জাপুর শ্মশানঘাটসংলগ্ন সড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় রুবেল মিয়া (২৬) নিহত হন। অন্য একটি মোটরসাইকেলকে পাশ কাটাতে গিয়ে তিনি সড়কে পড়ে গেলে দ্রুতগতির একটি সিএনজি তাকে চাপা দেয় বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে বাসস জানিয়েছে।

৬ জুলাই পাকুন্দিয়ার সুখিয়াবাজার এলাকায় ঘটে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। ঢাকা–কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের ব্র্যাক ব্যাংকের সামনে যাত্রীবাহী বাস ও গরুবাহী পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে পিকআপে থাকা তিনজন নিহত হন। দুর্ঘটনায় পিকআপে থাকা ছয়টি গরুও মারা যায়। আহত হন বাসের চালক ও সহযোগীসহ কয়েকজন।

এ ঘটনার পরও দুর্ঘটনার ধারাবাহিকতা থামেনি। ২৪ জুলাই চিলাকাড়া মৌলভীবাড়ি এলাকায় বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে মাইক্রোবাসচালক নিহত হন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

আগস্ট মাসেও পাকুন্দিয়ার সড়কে দুর্ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।

৮ আগস্ট বরাটিয়া চৌরাস্তা এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি ইজিবাইকে বাসের ধাক্কায় দুই যাত্রী নিহত হন। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ঘটনার পর দুর্ঘটনায় নিহতদের জন্য স্থানীয়ভাবে দোয়া ও কোরআন খতমের আয়োজন করা হয়। ৬ আগস্ট পাকুন্দিয়ায় সাম্প্রতিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের জন্য এমন একটি কর্মসূচি পালনের খবরও প্রকাশিত হয়েছে।

এরপর ১৯ আগস্ট সুখিয়াবাজারসংলগ্ন এগারসিন্দুর কোল্ড স্টোরেজ এলাকায় মাছবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী—নুরু মিয়া (৬০) ও তার স্ত্রী আনোয়ারা (৫৮)—নিহত হন। এ ঘটনায় তাদের মেয়ে মারজিয়াসহ আরও তিনজন আহত হন।

২২ আগস্ট সকালে বাহাদিয়া পাঁচপীরের মাজারসংলগ্ন ঢাকা–কিশোরগঞ্জ সড়কে দুটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষ হয়। এতে কয়েকজন আহত হন।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা নুরুজ্জামান (৬০)। রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি প্রাইভেটকার তাকে ধাক্কা দিলে গুরুতর আহত হন তিনি। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

নুরুজ্জামানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে দুর্ঘটনায় জড়িত প্রাইভেটকারসহ আরও কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর এবং সড়কে ব্যারিকেড দেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। প্রাইভেটকারচালককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকুন্দিয়া থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান।

একই মহাসড়কে কেন বারবার দুর্ঘটনা?

পাকুন্দিয়ার সাম্প্রতিক দুর্ঘটনাগুলোর ধরন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অধিকাংশ ঘটনাই ঢাকা–কিশোরগঞ্জ মহাসড়ক বা এর সঙ্গে সংযুক্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ঘটেছে। দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহনের তালিকায় রয়েছে বাস, ট্রাক, পিকআপ, মাইক্রোবাস, সিএনজি, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল।

জুলাইয়ের শুরুতে প্রকাশিত স্থানীয় এক প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বেপরোয়া গতি, ওভারটেকিং, তিন চাকার যানবাহন, চালকের অসতর্কতা এবং ট্রাফিক আইন না মানাকে দুর্ঘটনার পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে পুলিশের বক্তব্যেও যানবাহনের গতি ও ট্রাফিক আইন না মানার বিষয়টি উঠে এসেছে। ফলে শুধু সড়কের অবকাঠামো নয়, চালকের দক্ষতা, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রকাশিত ঘটনাগুলোতে দেখা যায়, কখনো একই এলাকায় বাস ও পিকআপের সংঘর্ষ, কখনো ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশার যাত্রী নিহত, আবার কখনো পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়েছে।

বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো—একটি দুর্ঘটনার পর সেটি দেখতে গিয়ে আরেকজনের প্রাণহানিও ঘটেছে। ২২ আগস্ট নুরুজ্জামানের মৃত্যু সেই ঝুঁকিটিই সামনে এনেছে।

এদিকে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহেই এক প্রতিবেদনে এক মাসের কিছু বেশি সময়ে পাকুন্দিয়ায় ১৪ জনের মৃত্যুর তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল। এরপরও জুলাই ও আগস্টে একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

ফলে স্থানীয়দের মধ্যে এখন প্রশ্ন উঠছে—আর কত প্রাণ গেলে পাকুন্দিয়ার ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক ও দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে?

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করা, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ট্রাফিক নজরদারি, অবৈধ ও অনিরাপদ যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং চালকদের আইন মেনে চলতে বাধ্য করার দাবি এখন স্থানীয়দের অন্যতম প্রধান প্রত্যাশা।


সরেজমিন নিউজ


কপিরাইট © ২০২৬ সরেজমিন নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত