রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দায়িত্ব নেওয়ার পর শূন্য হয়েছে ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসন। এরই মধ্যে আসনটিতে উপনির্বাচন ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন হিসাব-নিকাশ। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আসনটি শূন্য ঘোষণার পর আইন ও বিধি পর্যালোচনা করে দ্রুত নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিচয় এবং ঠাকুরগাঁওয়ে তাঁর পারিবারিক ও সাংগঠনিক প্রভাবের কারণে এই আসনে বিএনপির প্রার্থী নির্বাচনই এবারের উপনির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলনসহ অন্য দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সম্ভাব্য অংশগ্রহণে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়তে পারে।
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর তাঁর ছেড়ে দেওয়া আসনে বিএনপির পক্ষ থেকে কে প্রার্থী হবেন—এ প্রশ্ন এখন স্থানীয় নেতাকর্মীদের আলোচনার কেন্দ্রে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তাঁর মেয়ে শামারুহ মির্জা এবং ছোট ভাইয়ের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত বিএনপির পক্ষ থেকে কাউকেই আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।
শামারুহ মির্জাকে প্রার্থী করা হলে সেটি ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতিতে মির্জা পরিবারের ধারাবাহিক উপস্থিতি বজায় রাখার একটি কৌশল হতে পারে। অন্যদিকে দলীয় রাজনীতিতে অভিজ্ঞ কোনো নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে সাংগঠনিক সক্ষমতা ও নির্বাচনী অভিজ্ঞতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা যেতে পারে।
বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে জামায়াতে ইসলামীও নিজেদের অবস্থান জানান দিতে পারে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ছিলেন দেলাওয়ার হোসেন। একই নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
ফলে উপনির্বাচনে দলগুলো আগের সাংগঠনিক কাঠামো কাজে লাগিয়ে মাঠে নামলে বিএনপির জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা একেবারে একতরফা নাও হতে পারে।
উপনির্বাচন সামনে রেখে আলোচনায় এসেছে আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিরো আলমের নামও। তিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।
তবে শেষ পর্যন্ত তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেবেন কি না এবং নির্বাচন কমিশনের যাচাই-বাছাইয়ে তাঁর প্রার্থিতা টিকবে কি না—এসব বিষয় এখনো নিশ্চিত নয়।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা বিভিন্ন সময়ে জয় পেয়েছেন। ১৯৯১ সালের পর কয়েকটি নির্বাচনে আসনটির ফলাফলে বড় ধরনের পালাবদল দেখা গেছে। ২০০১ সালে মির্জা ফখরুল এ আসন থেকে নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীও আসনটি দখলে রাখেন।
সাম্প্রতিক নির্বাচনে অবশ্য মির্জা ফখরুল বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। ফলে তাঁর অনুপস্থিতিতে দলটি একই ভোটব্যাংক ধরে রাখতে পারে কি না, সেটিই উপনির্বাচনের বড় প্রশ্ন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে—বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্ত, মির্জা পরিবারের স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা এবং বিরোধী দলগুলোর সাংগঠনিক শক্তি।
বিএনপি যদি এমন কাউকে প্রার্থী করে যিনি মির্জা ফখরুলের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও দলীয় ভোট—দুই দিকই ধরে রাখতে পারেন, তাহলে দলটি এগিয়ে থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। বিপরীতে জামায়াত বা অন্য কোনো দল শক্তিশালী প্রার্থী মাঠে নামাতে পারলে ভোটের সমীকরণ আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে।
তবে এখনো প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হয়নি। নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার পরই স্পষ্ট হবে কারা আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের মাঠে নামছেন। তাই বর্তমানে আলোচনায় থাকা নামগুলোকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবেই দেখা হচ্ছে, চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে নয়।
মির্জা ফখরুলের উত্তরসূরি কে হবেন, সেটি শুধু একটি আসনের উপনির্বাচনের প্রশ্ন নয়; ঠাকুরগাঁওয়ের স্থানীয় রাজনীতিতে আগামী দিনের নেতৃত্বের সমীকরণও অনেকটা নির্ধারিত হতে পারে এই নির্বাচনকে ঘিরে।
.png)
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬
রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দায়িত্ব নেওয়ার পর শূন্য হয়েছে ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসন। এরই মধ্যে আসনটিতে উপনির্বাচন ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন হিসাব-নিকাশ। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আসনটি শূন্য ঘোষণার পর আইন ও বিধি পর্যালোচনা করে দ্রুত নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিচয় এবং ঠাকুরগাঁওয়ে তাঁর পারিবারিক ও সাংগঠনিক প্রভাবের কারণে এই আসনে বিএনপির প্রার্থী নির্বাচনই এবারের উপনির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলনসহ অন্য দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সম্ভাব্য অংশগ্রহণে ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়তে পারে।
মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর তাঁর ছেড়ে দেওয়া আসনে বিএনপির পক্ষ থেকে কে প্রার্থী হবেন—এ প্রশ্ন এখন স্থানীয় নেতাকর্মীদের আলোচনার কেন্দ্রে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তাঁর মেয়ে শামারুহ মির্জা এবং ছোট ভাইয়ের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত বিএনপির পক্ষ থেকে কাউকেই আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।
শামারুহ মির্জাকে প্রার্থী করা হলে সেটি ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতিতে মির্জা পরিবারের ধারাবাহিক উপস্থিতি বজায় রাখার একটি কৌশল হতে পারে। অন্যদিকে দলীয় রাজনীতিতে অভিজ্ঞ কোনো নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে সাংগঠনিক সক্ষমতা ও নির্বাচনী অভিজ্ঞতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা যেতে পারে।
বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে জামায়াতে ইসলামীও নিজেদের অবস্থান জানান দিতে পারে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ছিলেন দেলাওয়ার হোসেন। একই নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
ফলে উপনির্বাচনে দলগুলো আগের সাংগঠনিক কাঠামো কাজে লাগিয়ে মাঠে নামলে বিএনপির জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা একেবারে একতরফা নাও হতে পারে।
উপনির্বাচন সামনে রেখে আলোচনায় এসেছে আলোচিত স্বতন্ত্র প্রার্থী হিরো আলমের নামও। তিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।
তবে শেষ পর্যন্ত তিনি মনোনয়নপত্র জমা দেবেন কি না এবং নির্বাচন কমিশনের যাচাই-বাছাইয়ে তাঁর প্রার্থিতা টিকবে কি না—এসব বিষয় এখনো নিশ্চিত নয়।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীরা বিভিন্ন সময়ে জয় পেয়েছেন। ১৯৯১ সালের পর কয়েকটি নির্বাচনে আসনটির ফলাফলে বড় ধরনের পালাবদল দেখা গেছে। ২০০১ সালে মির্জা ফখরুল এ আসন থেকে নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থীও আসনটি দখলে রাখেন।
সাম্প্রতিক নির্বাচনে অবশ্য মির্জা ফখরুল বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। ফলে তাঁর অনুপস্থিতিতে দলটি একই ভোটব্যাংক ধরে রাখতে পারে কি না, সেটিই উপনির্বাচনের বড় প্রশ্ন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণে ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে—বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্ত, মির্জা পরিবারের স্থানীয় গ্রহণযোগ্যতা এবং বিরোধী দলগুলোর সাংগঠনিক শক্তি।
বিএনপি যদি এমন কাউকে প্রার্থী করে যিনি মির্জা ফখরুলের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও দলীয় ভোট—দুই দিকই ধরে রাখতে পারেন, তাহলে দলটি এগিয়ে থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। বিপরীতে জামায়াত বা অন্য কোনো দল শক্তিশালী প্রার্থী মাঠে নামাতে পারলে ভোটের সমীকরণ আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে।
তবে এখনো প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হয়নি। নির্বাচন কমিশনের তফসিল ঘোষণার পরই স্পষ্ট হবে কারা আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের মাঠে নামছেন। তাই বর্তমানে আলোচনায় থাকা নামগুলোকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবেই দেখা হচ্ছে, চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে নয়।
মির্জা ফখরুলের উত্তরসূরি কে হবেন, সেটি শুধু একটি আসনের উপনির্বাচনের প্রশ্ন নয়; ঠাকুরগাঁওয়ের স্থানীয় রাজনীতিতে আগামী দিনের নেতৃত্বের সমীকরণও অনেকটা নির্ধারিত হতে পারে এই নির্বাচনকে ঘিরে।
.png)
আপনার মতামত লিখুন