সরেজমিন নিউজ

জাতিসংঘের মহাসচিব নির্বাচন নিয়ে কেন ক্ষুব্ধ যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া?



জাতিসংঘের মহাসচিব নির্বাচন নিয়ে কেন ক্ষুব্ধ যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া?

জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আর এই নির্বাচনকে ঘিরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বর্তমান সভাপতি আনালেনা বেয়ারবকের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে আপত্তি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া।

দুই দেশের অভিযোগ, সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে বেয়ারবক মহাসচিব নির্বাচন প্রক্রিয়ায় এমনভাবে সক্রিয় হচ্ছেন, যা মূলত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এখতিয়ারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া বেয়ারবকের কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ পরিষদের সভাপতির বর্তমান ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

রাশিয়ার এ অবস্থানের আগে একই ধরনের সমালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেনিফার লোসেটা বেয়ারবকের উদ্যোগকে এখতিয়ারবহির্ভূত এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মন্তব্য করেন। এমনকি তাঁর কর্মকাণ্ডকে ‘ভণ্ডামি’ বলেও সমালোচনা করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও জাতিসংঘের সাবেক রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টোফ হয়গেন অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সমালোচনাকে অপ্রত্যাশিত এবং অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মনে করছেন।

জার্মান টেলিভিশন চ্যানেল জেডডিএফকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই বিরোধের পেছনে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও সাধারণ পরিষদের ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন কাজ করছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব নিয়োগের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পরিষদের সদস্যরা গোপন ভোটে একজন প্রার্থীকে সুপারিশ করেন। এরপর ১৯৩ সদস্যের সাধারণ পরিষদ সেই প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় সাধারণ পরিষদকে আরও সক্রিয় করার দাবি জোরালো হয়েছে। বেয়ারবকের বর্তমান উদ্যোগও সেই প্রবণতারই অংশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বেয়ারবক জানিয়েছেন, তিনি মহাসচিব নির্বাচনকে আরও স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক, কাঠামোবদ্ধ এবং বিশ্বাসযোগ্য করার পক্ষে।

এই লক্ষ্যেই তিনি আগের প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে মহাসচিব পদের প্রার্থীদের নিয়ে প্রকাশ্য শুনানির আয়োজন করেছেন। শুনানিতে প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। উপস্থিত দর্শকদেরও প্রার্থীদের বক্তব্য নিয়ে মতামত দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়।

কূটনৈতিক মহলের মতে, মহাসচিব নির্বাচনের ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগ এবারই প্রথম দেখা গেল।

শুধু তাই নয়, বেয়ারবক নিরাপত্তা পরিষদকে এমন প্রার্থীদের বিষয়েও গুরুত্ব দিয়ে ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন, যারা সাধারণ পরিষদের আয়োজিত সংলাপে অংশ নেননি।

এখানেই আপত্তি তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেনিফার লোসেটার যুক্তি, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া রয়েছে। তাই কোন প্রার্থীকে বিবেচনা করা হবে, সে সিদ্ধান্তে সাধারণ পরিষদের সভাপতির এ ধরনের নির্দেশনা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

তিনি অভিযোগ করেন, বেয়ারবক এমন একটি ধারণা তৈরি করছেন যেন নিরাপত্তা পরিষদ নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারছে না। তাঁর মতে, সাধারণ পরিষদের সভাপতির এমন অবস্থান জাতিসংঘের কাঠামোর জন্য ইতিবাচক নয়।

জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস চলতি বছরের শেষেই দায়িত্ব ছাড়বেন। তাঁর উত্তরসূরি বাছাইয়ের প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শুরু হয়েছে।

নতুন মহাসচিব নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স—বিশেষ প্রভাব রাখে। কোনো প্রার্থীকে পরিষদে সুপারিশ পাওয়ার পর সাধারণ পরিষদের অনুমোদনের মধ্য দিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

ফলে বেয়ারবকের উদ্যোগ সাধারণ পরিষদের ভূমিকা কতটা বাড়াতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিষদের সঙ্গে এ নিয়ে সমঝোতা কীভাবে হয়, সেদিকেই নজর রাখছেন কূটনীতিকরা।

এদিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব শিগগিরই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের হাতে যাচ্ছে।

বেয়ারবকের এক বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে সাধারণ পরিষদের নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেবেন খলিলুর রহমান। তাঁর মেয়াদ চলবে ২০২৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থী খলিলুর রহমান ৯৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের কূটনীতিক আন্দ্রেয়াস কাকোরিস পেয়েছিলেন ৯১ ভোট।

বেয়ারবক ইতোমধ্যে খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, বাংলাদেশের এই কূটনীতিক জাতিসংঘের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদটি মূলত প্রোটোকলনির্ভর হলেও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনার পরিবেশ তৈরি এবং সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে এর কিছুটা প্রভাব রয়েছে।

খলিলুর রহমানের জাতিসংঘের সঙ্গে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম, টেকসই উন্নয়ন, নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলোর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে তিনি এসব বিষয়কে আন্তর্জাতিক আলোচনায় আরও গুরুত্ব দিতে চান বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে বেয়ারবক দায়িত্ব ছাড়ার আগে জাতিসংঘের সংস্কার ও আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে আসছেন। তাঁর মতে, নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও জাতিসংঘই এমন একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে বিশ্বের সব দেশ নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ পায়।

৪৫ বছর বয়সী বেয়ারবক ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক ভূমিকা কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এদিকে গুতেরেসের উত্তরসূরি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাধারণ পরিষদ ও নিরাপত্তা পরিষদের ক্ষমতার সীমা নিয়ে যে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে, খলিলুর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই টানাপোড়েন কোন দিকে যায়, সেটিও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

সরেজমিন নিউজ

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জাতিসংঘের মহাসচিব নির্বাচন নিয়ে কেন ক্ষুব্ধ যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া?

প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আর এই নির্বাচনকে ঘিরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বর্তমান সভাপতি আনালেনা বেয়ারবকের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে আপত্তি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া।

দুই দেশের অভিযোগ, সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে বেয়ারবক মহাসচিব নির্বাচন প্রক্রিয়ায় এমনভাবে সক্রিয় হচ্ছেন, যা মূলত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এখতিয়ারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া বেয়ারবকের কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ পরিষদের সভাপতির বর্তমান ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

রাশিয়ার এ অবস্থানের আগে একই ধরনের সমালোচনা করে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেনিফার লোসেটা বেয়ারবকের উদ্যোগকে এখতিয়ারবহির্ভূত এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে মন্তব্য করেন। এমনকি তাঁর কর্মকাণ্ডকে ‘ভণ্ডামি’ বলেও সমালোচনা করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও জাতিসংঘের সাবেক রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টোফ হয়গেন অবশ্য যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সমালোচনাকে অপ্রত্যাশিত এবং অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মনে করছেন।

জার্মান টেলিভিশন চ্যানেল জেডডিএফকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এই বিরোধের পেছনে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ও সাধারণ পরিষদের ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন কাজ করছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব নিয়োগের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পরিষদের সদস্যরা গোপন ভোটে একজন প্রার্থীকে সুপারিশ করেন। এরপর ১৯৩ সদস্যের সাধারণ পরিষদ সেই প্রার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মহাসচিব নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় সাধারণ পরিষদকে আরও সক্রিয় করার দাবি জোরালো হয়েছে। বেয়ারবকের বর্তমান উদ্যোগও সেই প্রবণতারই অংশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বেয়ারবক জানিয়েছেন, তিনি মহাসচিব নির্বাচনকে আরও স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক, কাঠামোবদ্ধ এবং বিশ্বাসযোগ্য করার পক্ষে।

এই লক্ষ্যেই তিনি আগের প্রচলিত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে মহাসচিব পদের প্রার্থীদের নিয়ে প্রকাশ্য শুনানির আয়োজন করেছেন। শুনানিতে প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। উপস্থিত দর্শকদেরও প্রার্থীদের বক্তব্য নিয়ে মতামত দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়।

কূটনৈতিক মহলের মতে, মহাসচিব নির্বাচনের ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগ এবারই প্রথম দেখা গেল।

শুধু তাই নয়, বেয়ারবক নিরাপত্তা পরিষদকে এমন প্রার্থীদের বিষয়েও গুরুত্ব দিয়ে ভাবার আহ্বান জানিয়েছেন, যারা সাধারণ পরিষদের আয়োজিত সংলাপে অংশ নেননি।

এখানেই আপত্তি তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেনিফার লোসেটার যুক্তি, নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া রয়েছে। তাই কোন প্রার্থীকে বিবেচনা করা হবে, সে সিদ্ধান্তে সাধারণ পরিষদের সভাপতির এ ধরনের নির্দেশনা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

তিনি অভিযোগ করেন, বেয়ারবক এমন একটি ধারণা তৈরি করছেন যেন নিরাপত্তা পরিষদ নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারছে না। তাঁর মতে, সাধারণ পরিষদের সভাপতির এমন অবস্থান জাতিসংঘের কাঠামোর জন্য ইতিবাচক নয়।

জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস চলতি বছরের শেষেই দায়িত্ব ছাড়বেন। তাঁর উত্তরসূরি বাছাইয়ের প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শুরু হয়েছে।

নতুন মহাসচিব নির্বাচনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য—যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স—বিশেষ প্রভাব রাখে। কোনো প্রার্থীকে পরিষদে সুপারিশ পাওয়ার পর সাধারণ পরিষদের অনুমোদনের মধ্য দিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

ফলে বেয়ারবকের উদ্যোগ সাধারণ পরিষদের ভূমিকা কতটা বাড়াতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা পরিষদের সঙ্গে এ নিয়ে সমঝোতা কীভাবে হয়, সেদিকেই নজর রাখছেন কূটনীতিকরা।

এদিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব শিগগিরই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের হাতে যাচ্ছে।

বেয়ারবকের এক বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে সাধারণ পরিষদের নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেবেন খলিলুর রহমান। তাঁর মেয়াদ চলবে ২০২৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থী খলিলুর রহমান ৯৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের কূটনীতিক আন্দ্রেয়াস কাকোরিস পেয়েছিলেন ৯১ ভোট।

বেয়ারবক ইতোমধ্যে খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, বাংলাদেশের এই কূটনীতিক জাতিসংঘের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদটি মূলত প্রোটোকলনির্ভর হলেও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনার পরিবেশ তৈরি এবং সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে এর কিছুটা প্রভাব রয়েছে।

খলিলুর রহমানের জাতিসংঘের সঙ্গে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম, টেকসই উন্নয়ন, নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলোর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে তিনি এসব বিষয়কে আন্তর্জাতিক আলোচনায় আরও গুরুত্ব দিতে চান বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে বেয়ারবক দায়িত্ব ছাড়ার আগে জাতিসংঘের সংস্কার ও আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে আসছেন। তাঁর মতে, নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও জাতিসংঘই এমন একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে বিশ্বের সব দেশ নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ পায়।

৪৫ বছর বয়সী বেয়ারবক ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত জার্মানির সাবেক চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক ভূমিকা কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

এদিকে গুতেরেসের উত্তরসূরি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাধারণ পরিষদ ও নিরাপত্তা পরিষদের ক্ষমতার সীমা নিয়ে যে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে, খলিলুর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই টানাপোড়েন কোন দিকে যায়, সেটিও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।


সরেজমিন নিউজ


কপিরাইট © ২০২৬ সরেজমিন নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত