সরেজমিন নিউজ

পকেটে ইয়াবা ঢোকানোর অভিযোগ, গ্রেপ্তার ব্যবসায়ী



পকেটে ইয়াবা ঢোকানোর অভিযোগ, গ্রেপ্তার ব্যবসায়ী

ঢাকার মালিবাগের ফরচুন শপিং কমপ্লেক্সে এক ব্যবসায়ীর পকেটে ইয়াবার প্যাকেট ঢুকিয়ে তাকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে। এ ঘটনায় ৯০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের দাবি করে পুলিশ ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন প্রধানিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তবে তাঁর পরিবারের দাবি, পরিকল্পিতভাবে পকেটে মাদক ঢুকিয়ে তাকে ফাঁসানো হয়েছে।

ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি শপিং কমপ্লেক্সের দোকান ও ফ্ল্যাট মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন প্রধানিয়াকে ধরে টানাহেঁচড়া করছেন। একপর্যায়ে তাদের একজন ইসমাইলের পকেটে একটি প্যাকেট ঢুকিয়ে দিচ্ছেন বলে ফুটেজে দেখা যায়।

এর কিছুক্ষণ পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ইসমাইলের পকেট থেকে ৯০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে বলে জানায়। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। একই ঘটনায় একটি চাঁদাবাজির মামলায়ও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, ইসমাইলের পকেটে মাদক কে বা কারা ঢুকিয়েছে, সেটি তদন্ত করে বের করা হবে। তবে তার কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ইসমাইল তাঁর সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন। চিকিৎসা শেষে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে বাসায় ফেরার পথে ফরচুন শপিং কমপ্লেক্সের নিচে পৌঁছালে মাস্ক পরা কয়েকজন ব্যক্তি তাকে আটকে ফেলেন।

তারা ইসমাইলকে ধরে টানাহেঁচড়া করার পাশাপাশি তাকে ঘিরে রাখেন। এ সময় একজন তাঁর পকেটে একটি প্যাকেট ঢুকিয়ে দেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

ইসমাইলকে গ্রেপ্তারের আগে বৃহস্পতিবার আদালতের নির্দেশে রমনা থানায় চাঁদাবাজি ও হুমকির অভিযোগে একটি মামলা করা হয়। মামলাটি করেন একই মার্কেটের ফ্ল্যাট মালিক জাবেদ রায়হান।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৪ জুলাই মার্কেটের সামনে একটি দোয়া মাহফিল আয়োজনকে কেন্দ্র করে মার্কেট ও ফ্ল্যাট মালিক সমিতির পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ইসমাইলসহ সমিতির আরও ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

ইসমাইলের বড় ভাই খোরশেদ আলম বাবুলের দাবি, ফরচুন শপিং কমপ্লেক্সের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, একটি পক্ষ জাল দলিল তৈরি করে প্লট ও ফ্ল্যাট বিক্রির সঙ্গে জড়িত—এমন অভিযোগ তুলে অন্যরা তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে বিরোধে জড়ানোর পর থেকেই ইসমাইলকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মার্কেটের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিরোধ আরও বাড়ে বলেও দাবি করেন তিনি।

পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মার্কেট নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা এবং ব্যবসায়িক বিরোধের জেরেই ইসমাইলকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

রমনা থানার ওসি ইয়াসিন মিয়া বলেন, ইসমাইলকে গ্রেপ্তারের সময় তল্লাশি চালিয়ে তাঁর প্যান্টের পকেট থেকে ৯০ পিস ইয়াবা পাওয়া গেছে। উদ্ধার হওয়া মাদকের ভিত্তিতেই তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তবে সিসিটিভি ফুটেজে পকেটে প্যাকেট ঢুকিয়ে দেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, সেটি তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনাটিতে একদিকে মাদক উদ্ধারের দাবি, অন্যদিকে সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে পকেটে মাদক ঢুকিয়ে দেওয়ার অভিযোগ—দুই পক্ষের বক্তব্যের কারণে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সরেজমিন নিউজ

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


পকেটে ইয়াবা ঢোকানোর অভিযোগ, গ্রেপ্তার ব্যবসায়ী

প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ঢাকার মালিবাগের ফরচুন শপিং কমপ্লেক্সে এক ব্যবসায়ীর পকেটে ইয়াবার প্যাকেট ঢুকিয়ে তাকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুরে। এ ঘটনায় ৯০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের দাবি করে পুলিশ ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন প্রধানিয়ার বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তবে তাঁর পরিবারের দাবি, পরিকল্পিতভাবে পকেটে মাদক ঢুকিয়ে তাকে ফাঁসানো হয়েছে।

ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি শপিং কমপ্লেক্সের দোকান ও ফ্ল্যাট মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন প্রধানিয়াকে ধরে টানাহেঁচড়া করছেন। একপর্যায়ে তাদের একজন ইসমাইলের পকেটে একটি প্যাকেট ঢুকিয়ে দিচ্ছেন বলে ফুটেজে দেখা যায়।

এর কিছুক্ষণ পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ইসমাইলের পকেট থেকে ৯০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে বলে জানায়। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। একই ঘটনায় একটি চাঁদাবাজির মামলায়ও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, ইসমাইলের পকেটে মাদক কে বা কারা ঢুকিয়েছে, সেটি তদন্ত করে বের করা হবে। তবে তার কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ইসমাইল তাঁর সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন। চিকিৎসা শেষে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে বাসায় ফেরার পথে ফরচুন শপিং কমপ্লেক্সের নিচে পৌঁছালে মাস্ক পরা কয়েকজন ব্যক্তি তাকে আটকে ফেলেন।

তারা ইসমাইলকে ধরে টানাহেঁচড়া করার পাশাপাশি তাকে ঘিরে রাখেন। এ সময় একজন তাঁর পকেটে একটি প্যাকেট ঢুকিয়ে দেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

ইসমাইলকে গ্রেপ্তারের আগে বৃহস্পতিবার আদালতের নির্দেশে রমনা থানায় চাঁদাবাজি ও হুমকির অভিযোগে একটি মামলা করা হয়। মামলাটি করেন একই মার্কেটের ফ্ল্যাট মালিক জাবেদ রায়হান।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৪ জুলাই মার্কেটের সামনে একটি দোয়া মাহফিল আয়োজনকে কেন্দ্র করে মার্কেট ও ফ্ল্যাট মালিক সমিতির পক্ষ থেকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ইসমাইলসহ সমিতির আরও ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।

ইসমাইলের বড় ভাই খোরশেদ আলম বাবুলের দাবি, ফরচুন শপিং কমপ্লেক্সের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, একটি পক্ষ জাল দলিল তৈরি করে প্লট ও ফ্ল্যাট বিক্রির সঙ্গে জড়িত—এমন অভিযোগ তুলে অন্যরা তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে বিরোধে জড়ানোর পর থেকেই ইসমাইলকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মার্কেটের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বিরোধ আরও বাড়ে বলেও দাবি করেন তিনি।

পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মার্কেট নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা এবং ব্যবসায়িক বিরোধের জেরেই ইসমাইলকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

রমনা থানার ওসি ইয়াসিন মিয়া বলেন, ইসমাইলকে গ্রেপ্তারের সময় তল্লাশি চালিয়ে তাঁর প্যান্টের পকেট থেকে ৯০ পিস ইয়াবা পাওয়া গেছে। উদ্ধার হওয়া মাদকের ভিত্তিতেই তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তবে সিসিটিভি ফুটেজে পকেটে প্যাকেট ঢুকিয়ে দেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, সেটি তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনাটিতে একদিকে মাদক উদ্ধারের দাবি, অন্যদিকে সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে পকেটে মাদক ঢুকিয়ে দেওয়ার অভিযোগ—দুই পক্ষের বক্তব্যের কারণে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।


সরেজমিন নিউজ


কপিরাইট © ২০২৬ সরেজমিন নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত