চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সাবেক এক সচিবের ছেলের এইচএসসি ফলাফল পরিবর্তন করে ‘এ প্লাস’ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তদন্ত শেষে এ ঘটনায় চারজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপপরিদর্শক এস এম সফিউল আজম মুন্সি গত ১৮ আগস্ট চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্রটি দাখিল করেন। এতে পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সাবেক সচিব নারায়ণ চন্দ্রনাথ, সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুস্তফা কামরুল আখতার, সাবেক সিস্টেম অ্যানালিস্ট কিবরিয়া মাসুদ খান এবং নারায়ণ চন্দ্রনাথের ছেলে নক্ষত্র দেবনাথ। নক্ষত্র ২০২৩ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। মামলায় মোট ১১ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
পুলিশের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে সিস্টেম অ্যানালিস্ট কিবরিয়া মাসুদ খানের সহযোগিতায় ছেলে নক্ষত্রের পরীক্ষার ফলাফলে পরিবর্তন আনা হয়। তদন্তে জব্দ করা উত্তরপত্র ও নম্বর ফর্দ পর্যালোচনা করে বেশ কয়েকটি বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বরের সঙ্গে অতিরিক্ত নম্বর যোগ করার তথ্য পাওয়া গেছে।
তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, নক্ষত্রের মোট ১৪টি উত্তরপত্রে ২ থেকে ২৪ নম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে।
বাংলা, ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন পত্রে নম্বর পরিবর্তনের তথ্য অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলা প্রথম পত্রের রচনামূলক অংশে ৩১ নম্বরের জায়গায় ৪১ এবং ইংরেজি প্রথম পত্রের রচনামূলক অংশে ৭০ নম্বরের পরিবর্তে ৯০ নম্বর দেখানোর তথ্য পাওয়া গেছে।
ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রেও ৫৭ নম্বরের সঙ্গে অতিরিক্ত ২৪ নম্বর যোগ করে ৮১ করার অভিযোগ রয়েছে। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন অংশেও একইভাবে নম্বর বাড়ানোর তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে।
২০২৩ সালের ২৬ নভেম্বর এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর নক্ষত্র দেবনাথের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে তাঁর ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করা হয়।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নক্ষত্রের মা বনশ্রী দেবনাথ পাঁচলাইশ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই জিডির ঘটনাও পরবর্তীতে শিক্ষা প্রশাসনের নজরে আসে এবং বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ আরও বাড়ে।
এরপর ২০২৪ সালের জুনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘটনাটি তদন্তে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। তদন্তের পর একই বছরের ৯ জুলাই নারায়ণ চন্দ্রনাথকে শিক্ষা বোর্ডের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক পদে বদলি করা হয়। পরে তাঁকে ওএসডি করা হয় এবং নক্ষত্রের ফলাফল বাতিল করা হয়।
ঘটনার তদন্তের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের তৎকালীন সচিব অধ্যাপক ড. এ কে এম সামছু উদ্দিন আজাদ পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন।
মামলার পর একই বছরের ১৭ জুন নারায়ণ চন্দ্রনাথ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
তদন্ত কর্মকর্তা এস এম সফিউল আজম মুন্সি জানান, মামলায় চারজন এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন। তদন্ত শেষে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
.png)
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সাবেক এক সচিবের ছেলের এইচএসসি ফলাফল পরিবর্তন করে ‘এ প্লাস’ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগের তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তদন্ত শেষে এ ঘটনায় চারজনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপপরিদর্শক এস এম সফিউল আজম মুন্সি গত ১৮ আগস্ট চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্রটি দাখিল করেন। এতে পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন ও দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার আসামিরা হলেন চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সাবেক সচিব নারায়ণ চন্দ্রনাথ, সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুস্তফা কামরুল আখতার, সাবেক সিস্টেম অ্যানালিস্ট কিবরিয়া মাসুদ খান এবং নারায়ণ চন্দ্রনাথের ছেলে নক্ষত্র দেবনাথ। নক্ষত্র ২০২৩ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। মামলায় মোট ১১ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
পুলিশের অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ক্ষমতার প্রভাব ব্যবহার করে সিস্টেম অ্যানালিস্ট কিবরিয়া মাসুদ খানের সহযোগিতায় ছেলে নক্ষত্রের পরীক্ষার ফলাফলে পরিবর্তন আনা হয়। তদন্তে জব্দ করা উত্তরপত্র ও নম্বর ফর্দ পর্যালোচনা করে বেশ কয়েকটি বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বরের সঙ্গে অতিরিক্ত নম্বর যোগ করার তথ্য পাওয়া গেছে।
তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, নক্ষত্রের মোট ১৪টি উত্তরপত্রে ২ থেকে ২৪ নম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর প্রমাণ পাওয়া গেছে।
বাংলা, ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন পত্রে নম্বর পরিবর্তনের তথ্য অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলা প্রথম পত্রের রচনামূলক অংশে ৩১ নম্বরের জায়গায় ৪১ এবং ইংরেজি প্রথম পত্রের রচনামূলক অংশে ৭০ নম্বরের পরিবর্তে ৯০ নম্বর দেখানোর তথ্য পাওয়া গেছে।
ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রেও ৫৭ নম্বরের সঙ্গে অতিরিক্ত ২৪ নম্বর যোগ করে ৮১ করার অভিযোগ রয়েছে। পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন অংশেও একইভাবে নম্বর বাড়ানোর তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে।
২০২৩ সালের ২৬ নভেম্বর এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর নক্ষত্র দেবনাথের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরে তাঁর ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য শিক্ষা বোর্ডে আবেদন করা হয়।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নক্ষত্রের মা বনশ্রী দেবনাথ পাঁচলাইশ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই জিডির ঘটনাও পরবর্তীতে শিক্ষা প্রশাসনের নজরে আসে এবং বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ আরও বাড়ে।
এরপর ২০২৪ সালের জুনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘটনাটি তদন্তে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। তদন্তের পর একই বছরের ৯ জুলাই নারায়ণ চন্দ্রনাথকে শিক্ষা বোর্ডের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক পদে বদলি করা হয়। পরে তাঁকে ওএসডি করা হয় এবং নক্ষত্রের ফলাফল বাতিল করা হয়।
ঘটনার তদন্তের ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের তৎকালীন সচিব অধ্যাপক ড. এ কে এম সামছু উদ্দিন আজাদ পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেন।
মামলার পর একই বছরের ১৭ জুন নারায়ণ চন্দ্রনাথ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
তদন্ত কর্মকর্তা এস এম সফিউল আজম মুন্সি জানান, মামলায় চারজন এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন। তদন্ত শেষে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।
.png)
আপনার মতামত লিখুন