সরেজমিন নিউজ

প্রেসক্লাবের জমি নিয়ে বিরোধ: হামলার অভিযোগ, হাত ভাঙল সাংবাদিকের



প্রেসক্লাবের জমি নিয়ে বিরোধ: হামলার অভিযোগ, হাত ভাঙল সাংবাদিকের

শরীয়তপুর শহরের আমিনবাগ এলাকায় সাংবাদিক বি এম ইসরাফিলের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর তিনি শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁর ডান হাতে গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে জানা গেছে।

বি এম ইসরাফিল একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের শরীয়তপুর প্রতিনিধি। তাঁর অভিযোগ, শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি আবুল হোসেন সরদারের ছেলে পলাশ সরদারের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর ওপর হামলা করেন।

স্থানীয় সাংবাদিকদের ভাষ্য, শনিবার রাতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীরের তিনটি অংশ ভেঙে ফেলা হয়। এর প্রতিবাদে ইসরাফিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসক্লাবের সভাপতি ও জেলা প্রশাসকের ছবি ব্যবহার করে একটি পোস্ট দেন। এরপরই তাঁকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।

চিকিৎসাধীন সাংবাদিক ইসরাফিলের দাবি, প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভাঙার বিষয়টি নিয়ে তিনি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। পরে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার পর তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে পলাশ সরদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

তাঁর বাবা ও প্রেসক্লাব সভাপতি আবুল হোসেন সরদার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে সমালোচনার কারণে তাঁর ছেলে ও অন্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে থাকতে পারেন। তবে সাংবাদিকের ওপর হামলার বিষয়টি তিনি আগে জানতেন না বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে ঘটনার জন্য তাঁর ছেলে দায়ী হলে তাকে আইনের মুখোমুখি করার কথাও জানান তিনি।

শরীয়তপুর পৌর এলাকার আমিনবাগে প্রেসক্লাবের জন্য ১৯৯৮ সালে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায় ১৪ শতাংশ জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরে জেলা পরিষদের অর্থায়নে সেখানে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়। প্রেসক্লাবের একটি ভবনের নির্মাণকাজও চলমান রয়েছে।

এর পাশের জমিতে ২০২৩ সালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘শরীয়তপুর পার্ক’ নির্মাণ করা হয়। সম্প্রতি পার্কের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য প্রেসক্লাবের জমিটি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে শনিবার রাতে সীমানাপ্রাচীরের তিনটি অংশ ভেঙে ফেলা হয় বলে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

ঘটনার প্রতিবাদে রোববার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন স্থানীয় সাংবাদিকেরা। কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন দাবি জানানো হয়।

জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, প্রেসক্লাবের জন্য বরাদ্দ করা জমিটি সরকারি খাস/ভিপি সম্পত্তির আওতাভুক্ত এবং সেখানে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। সাংবাদিকদের জন্য বিকল্প জমি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি। পার্কের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য জমিটি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় সেখানে আগের মতো সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করে দেওয়ার কথা জানান জেলা প্রশাসক।

এদিকে সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগের বিষয়ে শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তানভীর হোসেন বলেন, ঘটনাটি তাঁর নজরে এসেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কেউ আইনি সহায়তা চাইলে পুলিশ সহযোগিতা করবে।

আপনার মতামত লিখুন

সরেজমিন নিউজ

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


প্রেসক্লাবের জমি নিয়ে বিরোধ: হামলার অভিযোগ, হাত ভাঙল সাংবাদিকের

প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

শরীয়তপুর শহরের আমিনবাগ এলাকায় সাংবাদিক বি এম ইসরাফিলের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর তিনি শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাঁর ডান হাতে গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে জানা গেছে।

বি এম ইসরাফিল একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের শরীয়তপুর প্রতিনিধি। তাঁর অভিযোগ, শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহসভাপতি আবুল হোসেন সরদারের ছেলে পলাশ সরদারের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর ওপর হামলা করেন।

স্থানীয় সাংবাদিকদের ভাষ্য, শনিবার রাতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীরের তিনটি অংশ ভেঙে ফেলা হয়। এর প্রতিবাদে ইসরাফিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসক্লাবের সভাপতি ও জেলা প্রশাসকের ছবি ব্যবহার করে একটি পোস্ট দেন। এরপরই তাঁকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।

চিকিৎসাধীন সাংবাদিক ইসরাফিলের দাবি, প্রেসক্লাবের সীমানাপ্রাচীর ভাঙার বিষয়টি নিয়ে তিনি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। পরে ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার পর তাঁকে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে পলাশ সরদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

তাঁর বাবা ও প্রেসক্লাব সভাপতি আবুল হোসেন সরদার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে সমালোচনার কারণে তাঁর ছেলে ও অন্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে থাকতে পারেন। তবে সাংবাদিকের ওপর হামলার বিষয়টি তিনি আগে জানতেন না বলে দাবি করেন। একই সঙ্গে ঘটনার জন্য তাঁর ছেলে দায়ী হলে তাকে আইনের মুখোমুখি করার কথাও জানান তিনি।

শরীয়তপুর পৌর এলাকার আমিনবাগে প্রেসক্লাবের জন্য ১৯৯৮ সালে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রায় ১৪ শতাংশ জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরে জেলা পরিষদের অর্থায়নে সেখানে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়। প্রেসক্লাবের একটি ভবনের নির্মাণকাজও চলমান রয়েছে।

এর পাশের জমিতে ২০২৩ সালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ‘শরীয়তপুর পার্ক’ নির্মাণ করা হয়। সম্প্রতি পার্কের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য প্রেসক্লাবের জমিটি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে শনিবার রাতে সীমানাপ্রাচীরের তিনটি অংশ ভেঙে ফেলা হয় বলে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

ঘটনার প্রতিবাদে রোববার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন স্থানীয় সাংবাদিকেরা। কর্মসূচিতে জেলা প্রশাসকের প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন দাবি জানানো হয়।

জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, প্রেসক্লাবের জন্য বরাদ্দ করা জমিটি সরকারি খাস/ভিপি সম্পত্তির আওতাভুক্ত এবং সেখানে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। সাংবাদিকদের জন্য বিকল্প জমি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানান তিনি। পার্কের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য জমিটি ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় সেখানে আগের মতো সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করে দেওয়ার কথা জানান জেলা প্রশাসক।

এদিকে সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগের বিষয়ে শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তানভীর হোসেন বলেন, ঘটনাটি তাঁর নজরে এসেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কেউ আইনি সহায়তা চাইলে পুলিশ সহযোগিতা করবে।


সরেজমিন নিউজ


কপিরাইট © ২০২৬ সরেজমিন নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত