সরেজমিন নিউজ

যৌতুক মামলায় নার্সকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ



যৌতুক মামলায় নার্সকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে যৌতুক নিরোধ আইনে স্বামীর দায়ের করা মামলায় তানিয়া খাতুন (২২) নামে এক নার্সকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার সকালে বালিয়াকান্দি আমলি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন।

আদালতের আদেশের পর তানিয়া খাতুনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজবাড়ী আদালত পুলিশের উপপরিদর্শক সুবির কুমার কর্মকার। তাঁর বিরুদ্ধে মানবভ্রুণ নষ্ট ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আরও দুটি মামলা রয়েছে বলেও আদালত সূত্রে জানা গেছে।

মামলার বাদী মো. সাখাওয়াত হোসেনের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তানিয়া তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। ওই অর্থ না দিলে সংসার করবেন না বলে জানানো হয়। একপর্যায়ে তানিয়া স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে যান।

মামলার নথি অনুযায়ী, রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর গ্রামের সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বালিয়াকান্দির ইসলামপুর ইউনিয়নের খালকুলা গ্রামের তানিয়ার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তানিয়া ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নার্স হিসেবে কর্মরত।

বিয়ের পর দাম্পত্য বিরোধ তৈরি হলে স্থানীয়ভাবে ও পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। পরে আদালতের তদন্তের ভিত্তিতে তানিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। এরপর তিনি আদালতে হাজির হয়ে সংসার করার শর্তে জামিন নেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. গোলাম মোস্তফা জানান, পরবর্তী সময়ে দুই পক্ষের আইনজীবী এবং লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে একাধিকবার বিরোধ মেটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে তানিয়া বাদীর সঙ্গে সংসার করতে সম্মত না হওয়ায় সমঝোতার চেষ্টা সফল হয়নি। এ পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার আদালত তাঁর জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় সাখাওয়াত হোসেন মামলাটি করেন। ওই ধারায় বিয়ের কোনো পক্ষের কাছে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যৌতুক দাবি করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদী সাখাওয়াত হোসেন দাবি করেন, বিয়ের পর যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছেন। সামাজিক ও স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেও ফল না পাওয়ায় আইনের আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে তানিয়ার মা ফাতেমা বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁর মেয়ের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সঠিক নয়। আদালতে হাজিরার বিষয়টিও তাঁরা আগে জানতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি।

মামলার অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের বিষয়ে আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সরেজমিন নিউজ

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


যৌতুক মামলায় নার্সকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে যৌতুক নিরোধ আইনে স্বামীর দায়ের করা মামলায় তানিয়া খাতুন (২২) নামে এক নার্সকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার সকালে বালিয়াকান্দি আমলি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন।

আদালতের আদেশের পর তানিয়া খাতুনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজবাড়ী আদালত পুলিশের উপপরিদর্শক সুবির কুমার কর্মকার। তাঁর বিরুদ্ধে মানবভ্রুণ নষ্ট ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে আরও দুটি মামলা রয়েছে বলেও আদালত সূত্রে জানা গেছে।

মামলার বাদী মো. সাখাওয়াত হোসেনের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তানিয়া তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। ওই অর্থ না দিলে সংসার করবেন না বলে জানানো হয়। একপর্যায়ে তানিয়া স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতে চলে যান।

মামলার নথি অনুযায়ী, রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর গ্রামের সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বালিয়াকান্দির ইসলামপুর ইউনিয়নের খালকুলা গ্রামের তানিয়ার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তানিয়া ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নার্স হিসেবে কর্মরত।

বিয়ের পর দাম্পত্য বিরোধ তৈরি হলে স্থানীয়ভাবে ও পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। পরে আদালতের তদন্তের ভিত্তিতে তানিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। এরপর তিনি আদালতে হাজির হয়ে সংসার করার শর্তে জামিন নেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. গোলাম মোস্তফা জানান, পরবর্তী সময়ে দুই পক্ষের আইনজীবী এবং লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে একাধিকবার বিরোধ মেটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে তানিয়া বাদীর সঙ্গে সংসার করতে সম্মত না হওয়ায় সমঝোতার চেষ্টা সফল হয়নি। এ পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার আদালত তাঁর জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

২০১৮ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় সাখাওয়াত হোসেন মামলাটি করেন। ওই ধারায় বিয়ের কোনো পক্ষের কাছে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যৌতুক দাবি করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদী সাখাওয়াত হোসেন দাবি করেন, বিয়ের পর যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছেন। সামাজিক ও স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেও ফল না পাওয়ায় আইনের আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে তানিয়ার মা ফাতেমা বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁর মেয়ের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সঠিক নয়। আদালতে হাজিরার বিষয়টিও তাঁরা আগে জানতে পারেননি বলে দাবি করেন তিনি।

মামলার অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের বিষয়ে আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।


সরেজমিন নিউজ


কপিরাইট © ২০২৬ সরেজমিন নিউজ । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত