বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক স্বর্ণোজ্জ্বল অধ্যায় রচনা করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত খ্যাতনামা নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেন। তাঁর চতুর্থ পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ বিশ্বমঞ্চে একের পর এক ইতিহাস গড়ে চলেছে। প্রথম কোনো বাংলাদেশি ফিচার-লেংথ চলচ্চিত্র হিসেবে বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতামূলক বিভাগ ‘ওরিজোন্তি’ (Orizzonti)-তে স্থান করে নিয়ে এটি বিশ্বমঞ্চে যাত্রা শুরু করে।
হাজার হাজার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের মধ্য থেকে নির্বাচিত হয়ে ভেনিসের ওরিজোন্তি প্রতিযোগিতা বিভাগে জায়গা করে নেওয়ার পর চলচ্চিত্রটির উত্তর আমেরিকান প্রিমিয়ার হয় ৫০তম টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে (TIFF)। সাফল্যের এই ধারাবাহিকতায় এবার ঐতিহ্যবাহী বিএফআই লন্ডন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের অফিশিয়াল কমপিটিশন বিভাগেও লড়ার জন্য মনোনীত হয়েছে ছবিটি।
ভেনিসের ‘ওরিজোন্তি’ বিভাগটি বিশ্ব চলচ্চিত্রের উদীয়মান ধারা, নান্দনিক উদ্ভাবন এবং সৃজনশীল গল্পবলা শৈলীকে স্বীকৃতি দেয়। এই বিভাগে বিশ্ববরেণ্য ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের একাধিক প্রভাবশালী নির্মাতার শক্তিশালী চলচ্চিত্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। ফ্রান্স, ইতালি, জাপান, স্পেন ও ল্যাটিন আমেরিকার আলোচিত একাধিক মনস্তাত্ত্বিক ও ড্রামা চলচ্চিত্রের সঙ্গে একই সারিতে প্রতিযোগিতা করছে সিনেমাটি। চলচ্চিত্রটির সিনেমাটোগ্রাফি করেছেন পর্তুগিজ আলোকচিত্রী লিওনর তেলেস (যিনি বার্লিন উৎসবে গোল্ডেন বিয়ার বিজয়ী) এবং আবহ সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন বিশ্বখ্যাত ট্রিপ হপ ধারার ব্রিটিশ সুরকার জিম উইলিয়ামস।
ঢাকার ধানমন্ডির ঐতিহাসিক বিউটি পার্লার ‘মেফেয়ার’-কে ঘিরে বছরের পর বছর প্রচলিত এক লৌকিক আখ্যান ও মনস্তাত্ত্বিক সত্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সিনেমাটি নির্মাণ করা হয়েছে। বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগে সমাজের নানাবিধ প্রত্যাশা, সৌন্দর্যচর্চার পারিবারিক চাপ এবং শারীরিক-মানসিক টেনশনের মুখোমুখি হতে গিয়ে একজন তরুণী কনের জীবনে নেমে আসা রহস্যময় ও সাইকোলজিক্যাল হরর পরিবেশ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এতে।
সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন নবাগত জাইনিন চৌধুরী করিম। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আছেন বাংলাদেশের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী তিন গুণী অভিনেত্রী— রিকিতা নন্দিনী শিমু, সুনেরাহ বিনতে কামাল ও আজমেরী হক বাঁধন। পাশাপাশি শতাব্দী ওয়াদুদ, সাবেরী আলম এবং সঙ্গীতশিল্পী দামীর খান এতে বিশেষ উপস্থিতি রেখেছেন।
বাংলাদেশ (খনা টকিজ), ফ্রান্স, পর্তুগাল, নরওয়ে ও জার্মানির যৌথ আন্তর্জাতিক প্রযোজনায় নির্মিত এবং ইতালি-ভিত্তিক প্রাদা ফাউন্ডেশনের ফিল্ম ফান্ড প্রাপ্ত এই চলচ্চিত্রটি বৈশ্বিক চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল।
.png)
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক স্বর্ণোজ্জ্বল অধ্যায় রচনা করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত খ্যাতনামা নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেন। তাঁর চতুর্থ পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ বিশ্বমঞ্চে একের পর এক ইতিহাস গড়ে চলেছে। প্রথম কোনো বাংলাদেশি ফিচার-লেংথ চলচ্চিত্র হিসেবে বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতামূলক বিভাগ ‘ওরিজোন্তি’ (Orizzonti)-তে স্থান করে নিয়ে এটি বিশ্বমঞ্চে যাত্রা শুরু করে।
হাজার হাজার আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের মধ্য থেকে নির্বাচিত হয়ে ভেনিসের ওরিজোন্তি প্রতিযোগিতা বিভাগে জায়গা করে নেওয়ার পর চলচ্চিত্রটির উত্তর আমেরিকান প্রিমিয়ার হয় ৫০তম টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে (TIFF)। সাফল্যের এই ধারাবাহিকতায় এবার ঐতিহ্যবাহী বিএফআই লন্ডন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের অফিশিয়াল কমপিটিশন বিভাগেও লড়ার জন্য মনোনীত হয়েছে ছবিটি।
ভেনিসের ‘ওরিজোন্তি’ বিভাগটি বিশ্ব চলচ্চিত্রের উদীয়মান ধারা, নান্দনিক উদ্ভাবন এবং সৃজনশীল গল্পবলা শৈলীকে স্বীকৃতি দেয়। এই বিভাগে বিশ্ববরেণ্য ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের একাধিক প্রভাবশালী নির্মাতার শক্তিশালী চলচ্চিত্রের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। ফ্রান্স, ইতালি, জাপান, স্পেন ও ল্যাটিন আমেরিকার আলোচিত একাধিক মনস্তাত্ত্বিক ও ড্রামা চলচ্চিত্রের সঙ্গে একই সারিতে প্রতিযোগিতা করছে সিনেমাটি। চলচ্চিত্রটির সিনেমাটোগ্রাফি করেছেন পর্তুগিজ আলোকচিত্রী লিওনর তেলেস (যিনি বার্লিন উৎসবে গোল্ডেন বিয়ার বিজয়ী) এবং আবহ সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন বিশ্বখ্যাত ট্রিপ হপ ধারার ব্রিটিশ সুরকার জিম উইলিয়ামস।
ঢাকার ধানমন্ডির ঐতিহাসিক বিউটি পার্লার ‘মেফেয়ার’-কে ঘিরে বছরের পর বছর প্রচলিত এক লৌকিক আখ্যান ও মনস্তাত্ত্বিক সত্য থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সিনেমাটি নির্মাণ করা হয়েছে। বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগে সমাজের নানাবিধ প্রত্যাশা, সৌন্দর্যচর্চার পারিবারিক চাপ এবং শারীরিক-মানসিক টেনশনের মুখোমুখি হতে গিয়ে একজন তরুণী কনের জীবনে নেমে আসা রহস্যময় ও সাইকোলজিক্যাল হরর পরিবেশ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এতে।
সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন নবাগত জাইনিন চৌধুরী করিম। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আছেন বাংলাদেশের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী তিন গুণী অভিনেত্রী— রিকিতা নন্দিনী শিমু, সুনেরাহ বিনতে কামাল ও আজমেরী হক বাঁধন। পাশাপাশি শতাব্দী ওয়াদুদ, সাবেরী আলম এবং সঙ্গীতশিল্পী দামীর খান এতে বিশেষ উপস্থিতি রেখেছেন।
বাংলাদেশ (খনা টকিজ), ফ্রান্স, পর্তুগাল, নরওয়ে ও জার্মানির যৌথ আন্তর্জাতিক প্রযোজনায় নির্মিত এবং ইতালি-ভিত্তিক প্রাদা ফাউন্ডেশনের ফিল্ম ফান্ড প্রাপ্ত এই চলচ্চিত্রটি বৈশ্বিক চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল।
.png)
আপনার মতামত লিখুন